গাদ্দাফি পুত্রের শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফন/ছবি: সামাজিক মাধ্যম
লিবিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফনে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি সাইফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) লিবিয়ার বানি ওয়ালিদ শহরে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বানি ওয়ালিদ শহরে আয়োজিত দাফন অনুষ্ঠানে গাদ্দাফি পরিবারের অনুগত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণ-অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার প্রায় ১৫ বছর পরও তার পরিবারের প্রতি সমর্থনের এই দৃশ্য লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিজ বাসভবনে নিহত হন। তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চারজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী তার বাড়িতে প্রবেশ করলে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ৫৩ বছর বয়সি সাইফ আল-ইসলাম গুলির আঘাতে মারা গেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
জানাজায় অংশ নিতে সির্তে শহর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা ৩৩ বছর বয়সী ওয়াদ ইব্রাহিম বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে। তিনি ছিলেন আমাদের নেতার পুত্র যার ওপর আমরা আমাদের আশা ও ভবিষ্যৎ ভরসা রেখেছিলাম।
একসময় সাইফ আল-ইসলামকে তার বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না তবুও তিনি কার্যত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতেন। নিজেকে সংস্কারপন্থি হিসেবে তুলে ধরে তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।
এছাড়া ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
তবে ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তের নদী বইয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর তার সেই সংস্কারপন্থি ভাবমূর্তি ভেঙে পড়ে। ওই বছরই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও জাতিসংঘের উদ্যোগে লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
বর্তমানে লিবিয়া দুই প্রশাসনে বিভক্ত-ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাবেইবার সরকার এবং পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের সমর্থিত প্রশাসন। এমন প্রেক্ষাপটে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির হত্যাকাণ্ড দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র:আল-জাজিরা
কেএম
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ যুদ্ধবিরতির আগে ইরানে ৪৮ ঘণ্টার ‘চূড়ান্ত’ হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- ২ যৌথ বাহিনীর হামলায় বিপ্লবী গার্ডের নৌ কমান্ডারকে হত্যার দাবি
- ৩ ইসরায়েলের সেনা সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
- ৪ যেসব কারণে ইরানি শাসনব্যবস্থা এখনো ভেঙে পড়েনি
- ৫ যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানে যেতে পারেন জেডি ভ্যান্স