ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিসকে আরও সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে আরও সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইরানের একটি আদালত। তার আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন। নারী অধিকার এবং মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে গত এক দশকের বেশির ভাগ সময় তাকে কারাগারেই থাকতে হয়েছে। খবর বিবিসির।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরের একটি আদালত এই মানবাধিকার কর্মীকে ‌‘জমায়েত ও যোগসাজশের’ জন্য ছয় বছরের এবং ‘প্রচার কার্যক্রমের’ জন্য দেড় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তার আইনজীবী মোস্তফা নীলি রোববার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি স্মরণসভায় ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ করার জন্য ডিসেম্বরে নার্গিস মোহাম্মদীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার পরিবার জানিয়েছে, গ্রেফতারের সময় মারধরের পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইরানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য ৫৩ বছর বয়সী এই নারীকে ২০২৩ সালে নোবেল বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

গত ১৪ ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো নার্গিস মোহাম্মদীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান নীলি। তিনি জানান, নার্গিসকে দেশ ত্যাগের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং পূর্ব খুসফ অঞ্চলে দুই বছরের নির্বাসনও দেওয়া হয়েছে।

নীলি বলেছেন, তাকে তিন দিন আগে তার ‘শারীরিক অবস্থার কারণে’ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তারপরে তাকে যে আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

নার্গিস মোহাম্মদীর স্বামী তাগি রহমানি বলেছেন, তিনি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি কারণ তার ‘অটল’ বিশ্বাস ছিল যে ‘এই বিচার বিভাগের কোনও বৈধতা নেই’ এবং বিচার প্রক্রিয়া ‘পূর্বনির্ধারিত পরিণতির সাথে একটি নিছক প্রহসন’।

তাকে সম্ভবত আদালতে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল পুরো সময় তিনি চুপ ছিলেন। তিনি একটি শব্দও বলেননি, এমনকি কোনো কাগজেও স্বাক্ষর করেননি।

তিনি বিবিসিকে এই কারাদণ্ডের রায়কে ‘নিষ্ঠুর এবং অত্যন্ত অন্যায্য’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, মোহাম্মদীর মেয়ে কিয়ানা রহমানি বলেছেন, তিনি তার মায়ের জন্য ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। মোহাম্মদী এরই মধ্যে তার জীবনের ১০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন।

২০২১ সাল থেকে তিনি ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারণামূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশ’ এর জন্য ১৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই কর্মীকে চিকিৎসার কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার থেকে তিন সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হওয়া অস্থিরতার সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে নার্গিস মোহাম্মদীও ছিলেন।

টিটিএন