ইরানের জলসীমা থেকে মার্কিন জাহাজগুলোকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার নির্দেশ
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর টহল/ ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের জলসীমা থেকে মার্কিন জাহাজগুলোকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য নতুন এই নির্দেশনা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএস ম্যারাড) প্রকাশিত এই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানি বাহিনীকে মার্কিন জাহাজে উঠতে অনুমতি না দিতে জাহাজের ক্যাপ্টেনদের সতর্ক থাকতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, যদি ইরানি বাহিনী কোনো মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে উঠে পড়ে, সে ক্ষেত্রে নাবিকদের জোরপূর্বক প্রতিরোধ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে করে ওই তল্লাশি বা বোর্ডিংয়ের প্রতি সম্মতি বা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এমনটি বোঝায় না।
আরও পড়ুন>>
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনীর ‘ধাওয়া’
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে পারবে ইরান?
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় মার্কিন জাহাজগুলো যেন ইরানের জলসীমা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকে। বিশেষ করে পূর্বমুখী যাত্রার সময় জাহাজগুলোকে ওমানের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে চলাচলের সুপারিশ করা হয়েছে।
জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকির মুখে রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। ১৯৮০–এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় উভয় দেশ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, যা ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালায়। গোষ্ঠীটির দাবি, গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের লক্ষ্যে তাদের এই হামলা।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর এক ইরানি সংসদ সদস্য যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন সংকীর্ণ পথ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সেখানে নৌ-মহড়া চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ওই অঞ্চলে তাদের একটি রণতরীর কাছে চলে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এর আগে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে। ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওমান উপসাগরে নিজেদের জলসীমায় চারটি জাহাজে নাশকতার অভিযোগ তোলে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগর এলাকায় কোনো জাহাজের বিরুদ্ধে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষের প্রকাশ্য হুমকির খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/