ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ কোরিয়া

কর্মীর ভুলে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে ‘বিথাম্ব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কর্মীর একটি ভুলে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘বিথাম্ব’। গত সপ্তাহে একটি প্রোমোশনাল ইভেন্টের সময় ভুলবশত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ ২০ হাজার বিটকয়েন জমা হয়ে যায়।

বিথাম্ব জানিয়েছে, অধিকাংশ ভুল লেনদেন এরই মধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। তবে প্রায় ১৩ বিলিয়ন কোরিয়ান ওন (প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার) এখনো উদ্ধার করা যায়নি। কারণ কিছু গ্রাহক ত্রুটি ধরা পড়ার আগেই সেই অর্থ বিক্রি বা উত্তোলন করে ফেলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ ফেব্রুয়ারি। তখন এক কর্মী র‍্যান্ডম বক্স নামের একটি প্রচারণায় পুরস্কারের অঙ্ক কোরিয়ান ওনের বদলে বিটকয়েনে এন্ট্রি করেন। পরিকল্পনা ছিল ৬৯৫ জন গ্রাহকের মধ্যে মোট ৬ লাখ ২০ হাজার ওন (প্রায় ৪২৩ ডলার) পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করার।

কিন্তু ভুলের কারণে পাঠানো হয় ৬ লাখ ২০ হাজার বিটকয়েন যার মূল্য প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২৪৯ জন গ্রাহক তাদের বক্স খুলে পুরস্কার পান যা এক্সচেঞ্জটির মোট মালিকানাধীন বিটকয়েনের প্রায় ১৪ গুণ।

দক্ষিণ কোরিয়ার ফাইন্যান্সিয়াল সুপারভাইজরি সার্ভিস (এফএসএস)-এর গভর্নর লি চান-জিন ঘটনাটিকে বিপর্যয়কর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিটকয়েনের দাম বাড়ায় ফেরত দিতে হলে গ্রাহকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে এই ঘটনা এক্সচেঞ্জগুলোর অভ্যন্তরীণ হিসাব ব্যবস্থার ‘গঠনগত দুর্বলতা’ প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যেসব গ্রাহক পাওয়া বিটকয়েন বিক্রি করেছেন, তারা ফৌজদারি মামলার মুখে পড়বেন কি না এ বিষয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কারণ ২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, ক্রিপ্টোকারেন্সি দেশটির ফৌজদারি আইনে ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচিত নয়।

বিথাম্ব জানিয়েছে, তারা ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভুল লেনদেন অভ্যন্তরীণ হিসাব সংশোধনের মাধ্যমে ঠিক করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

তবে আর্থিক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এক্সচেঞ্জটি সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আগের ৩৫ মিনিটে ৮৬ জন গ্রাহক প্রায় ১ হাজার ৭৮৮ বিটকয়েন বিক্রি করে ফেলেন, যার ফলে প্ল্যাটফর্মে স্বল্প সময়ের জন্য দাম কমে যায়। কিছু অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তোলা হয় এবং কিছু দিয়ে অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা হয়।

বর্তমানে বিথাম্ব প্রায় ৮০ জন গ্রাহকের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করে স্বেচ্ছায় অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দেওয়ানি মামলা এড়াতে চাচ্ছে কারণ সেক্ষেত্রে আদালত নগদ নয়, মূল সম্পদ ফেরতের নির্দেশ দিতে পারে।

এ ঘটনায় এফএসএস পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং ১১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সংসদে জরুরি শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বিথাম্ব জানিয়েছে, আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সম্পদ পরিশোধ প্রক্রিয়া নতুন করে নকশা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করব। এটি কোনো হ্যাকিং বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ফল নয় এবং গ্রাহকদের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কেএম