ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

নাভালনিকে ব্যাঙের বিষে হত্যা করেছে রাশিয়া, দাবি যুক্তরাজ্যসহ ৫ দেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাশিয়ার বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে দুই বছর আগে রুশ রাষ্ট্রই ‘ডার্ট ফ্রগ’–এর বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশ। বহুজাতিক গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে এই দাবির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো গোয়েন্দা সংস্থা যুক্ত ছিল না।

নাভালনি সাইবেরিয়ার একটি দূরবর্তী কারাগারে ১৯ বছরের দণ্ড ভোগ করছিলেন। মৃত্যুর আগে তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সমাহিত করার আগে দুটি দেশের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

যুক্তরাজ্য এ ঘটনাকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়া রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (সিডব্লিউসি) লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার (ওপিসিডব্লিউ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

আরও পড়ুন>>
কারাগারে রাশিয়ার বিরোধী নেতা নাভালনির মৃত্যু

পুতিনের সমালোচক নাভালনির মরদেহ ‘গায়েব’
প্রিগোজিন থেকে নাভালনি/ পুতিনের সমালোচনা করে ‘রহস্যময় মৃত্যু’ হয়েছে যাদের

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, পরীক্ষাগারে পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের ডার্ট ফ্রগের ত্বকে পাওয়া মারাত্মক বিষ ‘এপিবাটিডিন’ নাভালনির শরীরের নমুনায় মিলেছে এবং সম্ভবত এটিই তার মৃত্যুর কারণ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাইবেরিয়ার কারাগারে বন্দি অবস্থায় নাভালনিকে লক্ষ্য করে এই প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ—সবই কেবল রুশ রাষ্ট্রের ছিল। তাই তার মৃত্যুর জন্য আমরা রাশিয়াকেই দায়ী করছি।’

এতে আরও বলা হয়, এপিবাটিডিন স্বাভাবিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ফ্রগে পাওয়া যায়। বন্দি অবস্থায় থাকা ব্যাঙে এই বিষ উৎপন্ন হয় না এবং রাশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে এটির উপস্থিতি নেই। ফলে নাভালনির শরীরে এ বিষের উপস্থিতির ‘নির্দোষ কোনো ব্যাখ্যা নেই’।

এর আগে নাভালনিকে রুশ রাষ্ট্র বিষপ্রয়োগ করেছে—এমন সন্দেহ থাকলেও নির্দিষ্ট বিষের প্রমাণ সামনে আসার তথ্যটি নতুন।

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনিয়া গত সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ময়নাতদন্তের সময় তার স্বামীর শরীরে বিষের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন, ‘এই বিষ পক্ষাঘাত, শ্বাসরোধ ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু ঘটায়। প্রথম দিন থেকেই আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমার স্বামীকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। এখন তার প্রমাণ মিলেছে—পুতিন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে আলেক্সেইকে হত্যা করেছে।’

ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে অতীতে শত্রুদের বিরুদ্ধে বিষ ব্যবহারের অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০০৬ সালে লন্ডনে রেডিওঅ্যাকটিভ পোলোনিয়াম প্রয়োগে আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোর মৃত্যু, ২০১৮ সালে স্যালিসবারিতে সাবেক গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালের ওপর নার্ভ এজেন্ট হামলা এবং এর আগেও নাভালনির ওপর বিষপ্রয়োগের চেষ্টা—এসব ঘটনায় রুশ সরকার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সুইডেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে তারা নাভালনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করেছে। যুক্তরাজ্যের দাবি, ‘রুশ রাষ্ট্র রাজনৈতিক বিরোধিতার ভয়ে নাভালনিকে লক্ষ্য করে এই প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহার করেছে।’

মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স চলাকালে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। দুই বছর আগে একই সম্মেলন শুরুর সময়ই নাভালনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেছিল রাশিয়া।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএএ/