পারস্য উপসাগরে বিশেষ ‘গুপ্তচর’ ড্রোন উড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
এমকিউ-৪ ট্রাইটন/ছবি: এমএসএন
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা তীব্র হওয়ার মধ্যে পারস্য উপসাগরের আকাশে গোপনে নজরদারি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এমকিউ-৪ ট্রাইটন নামের গুপ্তচর ড্রোন উড্ডয়ন করে উপসাগরের ওপর দিয়ে নজরদারি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে এটি সৌদি আরব ও ইরাকের আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটি থেকে ড্রোনটি উড্ডয়ন করা হয়।
এমকিউ-৪ ট্রাইটন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি উচ্চ-উচ্চতায় দূরপাল্লার একটি মানববিহীন নজরদারি বিমান। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় উড়তে পারে এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মাইল পর্যন্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। উন্নত ৩৬০-ডিগ্রি রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক ও শ্রেণিবিন্যাস করে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ ফেব্রুয়ারিতেও মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের একটি ট্রাইটন ড্রোন নজরদারি চালানো হয়। এছাড়া ১৩ ফেব্রুয়ারি দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর পি-৮এ পোসিডোন টহল বিমান ইরানের আকাশসীমার কাছাকাছি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে আঞ্চলিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বৃহৎ সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিতে পারেন বলে জোড়ালো গুঞ্জন রয়েছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলসংলগ্ন অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও জেরাল্ড ফোর্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ ও শতাধিক যুদ্ধবিমান। আরও ৫০টি এফ-৩৫, এফ-২২ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে দ্রুত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাতে প্রায় ১৫০টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। আল ধাফরা ঘাঁটিতে এমকিউ-৪ ট্রাইটন ছাড়াও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন রয়েছে। ট্রাইটন কেবল নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হলেও, রীপার ড্রোন লেজার-নির্দেশিত বোমা বহনে সক্ষম এবং নির্ভুল হামলা চালাতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে, যা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে সতর্কবার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: এমএসএন
কেএম