ট্রাম্পের ভাসমান হাসপাতাল পাঠানোর প্রস্তাবে গ্রিনল্যান্ডের না
তীরে বসে লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর ভাসমান হাসপাতাল ইউএসএনএস মার্সিকে দেখছেন এক নারী/ ২০২০ সালের ২৭ মার্চে তোলা ছবি/ এএফপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাসমান হাসপাতাল পাঠানোর প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে গ্রিনল্যান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হুটহাট মন্তব্য’ না করে ট্রাম্পকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন।
সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বীপটির অনেক মানুষ অসুস্থ ও তাদেরকে যথাযথ সেবা দেওয়া হচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসাসামগ্রীসহ একটি জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দেন তিনি।
এর জবাবে নিলসেন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে এর উত্তর হলো- না, ধন্যবাদ। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো না হলেও গ্রিনল্যান্ড তার সব নাগরিককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, তিনি ও তার গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি মিলে গ্রিনল্যান্ডে একটি দারুণ ভাসমান হাসপাতাল পাঠাতে যাচ্ছেন। এতে সেখানকার অসুস্থ ও সেবা না পাওয়া অনেক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এটি পথেই আছে!!!'
পোস্টটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত দুটি ভাসমান হাসপাতালের একটি ইউএসএনএস মার্সি’র মতো দেখতে একটি ছবি (সম্ভবত ইলাস্ট্রেশন বা এআই দিয়ে তৈরি) যুক্ত ছিল। ট্রাম্প আসলেই ওই জাহাজগুলোর কোনোটি বোঝাচ্ছিলেন কি না, কিংবা হঠাৎ কেন তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন, তা পরিষ্কার নয়।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের জবাবে ফেসবুকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবটি নজরে এসেছে। কিন্তু আমাদের একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আছে, যেখানে নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা সম্পূর্ণ ফ্রি।
ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে নিলসেন আরও লেখেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, যেখানে ডাক্তারের কাছে গেলেই টাকা খরচ করতে হয়।
নিলসেন জানান, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে সবসময়ই উন্মুক্ত। তবে যে কোনো সমস্যা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করাটা জরুরি।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত বিরল খনিজের বিপুল মজুত রয়েছে। প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের হাতে রয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বারবার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা পাবে। কারণ, আর্কটিক অঞ্চলে এর কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল খনিজ সম্পদ রয়েছে। এমনকি, এই দ্বীপ দখলের জন্য তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে। তবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের হাতে রয়েছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চান, তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে- যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে ব্যাপক ও দৃঢ় বিরোধিতা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এসএএইচ
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ মোদীকে নিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা নেতানিয়াহুর
- ২ ট্রাম্পের বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টাকালে নিহত অস্ত্রধারীর পরিচয় প্রকাশ
- ৩ ট্রাম্পের ভাসমান হাসপাতাল পাঠানোর প্রস্তাবে গ্রিনল্যান্ডের না
- ৪ ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের মৃত্যু
- ৫ উচ্চশিক্ষায় তুরস্ক এখন মুসলিম শিক্ষার্থীদের শীর্ষ গন্তব্য