কানাডা-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়
কানাডা-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায়/ ছবি: এএফপি (ফাইল)
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সফরের প্রথম ধাপে তিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো এবং টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবেন।
২০২৩ সালে কানাডায় এক শিখ নেতার হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে অটোয়া—যা নয়াদিল্লি জোরালোভাবে অস্বীকার করে। এ ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
কার্নি প্রথমে ভারতের আর্থিক কেন্দ্র মুম্বাই সফর করবেন, এরপর নয়াদিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
দুই দেশই বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির দ্রুত পরিবর্তন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিজনিত অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
কার্নির কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনায় বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), দক্ষ জনশক্তি, সংস্কৃতি ও প্রতিরক্ষা খাতে নতুন অংশীদারত্বের বিষয় গুরুত্ব পাবে।
বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি ভারত কানাডার সপ্তম বৃহত্তম পণ্য ও সেবা বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
গত বছর দুই দেশ একটি প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
ভারতে বর্তমানে ৬০০-র বেশি কানাডীয় কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে—তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও আর্থিক সেবাখাতে।
ভারত থেকে কানাডায় প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ, রত্ন ও গহনা, মূল্যবান পাথর এবং সামুদ্রিক পণ্য।
নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, কানাডার পেনশন ও সম্পদ তহবিলগুলো এরই মধ্যে ভারতে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ভারত প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বীমা খাতসহ কিছু সংবেদনশীল খাতে নিয়ম শিথিল করেছে।
কানাডায় বিরল খনিজের বড় মজুত রয়েছে, যা চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খনি ও সম্পদ উন্নয়নে অটোয়ার কারিগরি দক্ষতাও ভারতের আগ্রহের বিষয়।
১.৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৮ গিগাওয়াট থেকে ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে চায়। গত নভেম্বরে কার্নি ও মোদীর বৈঠকে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ইউরেনিয়াম সরবরাহ বাড়াতে বহু-বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি রপ্তানির ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে বিকল্প দীর্ঘমেয়াদি বাজার খুঁজছে অটোয়া।
কানাডায় প্রায় ২৮ লাখ ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করেন। এছাড়া প্রায় চার লাখ ভারতীয় শিক্ষার্থী কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়ন করছেন—যা দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী।
কানাডা ভারতের বাইরে সবচেয়ে বড় শিখ সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। এ সম্প্রদায়ের একটি অংশ ‘খালিস্তান’ নামে পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন করে আসছে।
অটোয়া অভিযোগ করে, ভ্যাঙ্কুভারে খালিস্তানপন্থি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের ২০২৩ সালের হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততা ছিল এবং আরও কিছু শিখ কর্মীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ভারত এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ইস্যুতে ২০২৪ সালে দুই দেশ একাধিক কূটনীতিক বহিষ্কার করে, ফলে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। তবে ২০২৫ সালের মার্চে কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্কের উন্নতি শুরু হয় এবং পরে রাষ্ট্রদূতরা পুনর্বহাল হন।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম