ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন

বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট। কর্তব্যরত অবস্থায় কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। ওই ঘটনায় ভারতজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আন্দোলন, মিছিল, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও ‘রাত দখল’সহ একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়।

সেই ঘটনার পর থেকে আদালত ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীর বাবা-মা। এবার ন্যায়বিচারের আশায় রাজনীতিতে নাম লেখালেন নিহতের মা রত্না দেবনাথ।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুঞ্জন ছিল, আলোচিত পরিবারটি রাজনীতিতে যোগ দিতে পারে। এর অন্যতম কারণ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ সিপিআই(এম) ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও তাদের সঙ্গে দেখা করে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে শুরুতে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা।

আরও পড়ুন>>
আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড
আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ
আর জি কর কাণ্ড/ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন নিহতের মা-বাবা

অবশেষে বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় বিজেপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলোচনার পর রাজনীতিতে আসা এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানান চিকিৎসকের মা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন তিনি। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেসের তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং বামফ্রন্টের কলতান দাশগুপ্ত।

বিজেপি সূত্রে আরও জানা গেছে, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেবেন রত্না দেবনাথ। এরপরই পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত চিকিৎসকের বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথকে বিজেপির পতাকা হাতে দেখা গেছে। তিনি দলের হয়ে স্লোগানও দেন। প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির বহু কর্মী-সমর্থক তাদের বাড়িতে গিয়ে আগাম শুভেচ্ছা জানান।

এ বিষয়ে পানিহাটির নাতাগরের বাসিন্দা রত্না দেবনাথ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিজেপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়তে চাই। মেয়ের বিচার পেতে অবশেষে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম থেকেই বিভিন্ন দল থেকে প্রস্তাব আসছিল, কিন্তু আমি রাজি হইনি। পরে দেখলাম নারীদের নিরাপত্তা নেই, সবখানে দুর্নীতি। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষ ভালো নেই। তাই তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। আমিই প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ফোন করে জানিয়েছিলাম যে আমি বিজেপির প্রার্থী হতে চাই।’

রত্না দেবনাথের কথায়, ‘রাজনীতিতে যোগ না দিলে মেয়ের ন্যায়বিচারের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিভিন্ন দল থেকেই প্রস্তাব এসেছিল, তবে আমাদের মনে হয়েছে বিরোধী দল হিসেবে বিজেপিই ক্ষমতায় আসতে পারে। মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পেতে তাদের সঙ্গেই থাকা প্রয়োজন।’

এদিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, সিবিআই ঠিকভাবে তদন্ত করছে না, ফলে বিচার পেতে দেরি হচ্ছে। তবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ফলে ন্যায়বিচারের লড়াই আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে ৪ মে।

ডিডি/কেএএ/