২৪ ঘণ্টায় ৯৪৮ ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া
২৪ ঘণ্টায় ৯৪৮ ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া/ ছবি: এএফপি (ফাইল)
২৪ ঘণ্টায় ৯৪৮ ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর একদিনে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার এটাই সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে আঘাত হেনেছে এসব ড্রোন। খবর বিবিসির।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে শত শত ড্রোন ছোড়া হয়েছে। দিনের বেলায় চালানো এই অস্বাভাবিক হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অংশ ষোড়শ শতাব্দীর বার্নারডাইন মঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক অঞ্চলে একটি প্রসূতি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত রাতে রাশিয়ার এক হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। ইউক্রেন জানিয়েছে, ৩৯২টি ড্রোন ও ৩৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সাম্প্রতিক এই হামলার ব্যাপকতা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, রাশিয়ার এই যুদ্ধ সত্যিকার অর্থে শেষ করার কোনো ইচ্ছা নেই।
তবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এই হামলাগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে লভিভ কর্তৃপক্ষের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে বার্নারডাইন মঠের কাছে একটি আবাসিক ভবনের ছাদে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা পৃথক একটি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ড্রোন শহরের ওপর দিয়ে নিচুতে উড়ে গিয়ে আবাসিক ভবনটিতে আঘাত হানছে।
লভিভের আঞ্চলিক প্রধান মাক্সিম কোজিৎস্কি বলেছেন, রাশিয়ার হামলায় ৩২ জন আহত হয়েছেন। ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহরে দুইজন নিহত এবং ছয় বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক রাজধানীতে একটি প্রসূতি হাসপাতালসহ বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিম ইউক্রেনের আরেকটি শহর তেরনোপিলও মঙ্গলবার হামলার শিকার হয়। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি সরাসরি আঘাতের খবর দিলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মধ্য ইউক্রেনের শহর ভিনিতসিয়ায় একজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান নাতালিয়া জাবোলোতনা।
রুশ হামলায় ইউক্রেনের ১১টি অঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে দেশজুড়ে একাধিক সরাসরি আঘাতের কথাও স্বীকার করা হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু করে। যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে।
টিটিএন