ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

দুদিনের সফরে উত্তর কোরিয়ায় বেলারুশের লুকাশেঙ্কো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭:২৩ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২৬

উত্তর কোরিয়ায় প্রথম সরকারি সফর করেছেন বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে সমর্থন করা উত্তর কোরিয়া ও বেলারুশ তাদের সম্পর্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বেল্টা জানিয়েছে, এই দুই দিনের সফরের মূল লক্ষ্য হলো,পারস্পরিক স্বার্থের মূল ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজে বের করা।

বেল্টাকে লুকাশেঙ্কো বলেছেন, সম্পর্ক বাড়ানোর সময় এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের একে অপরের দিকে টেনে আনছে।

সফরের সময় তারা একটি 'বন্ধুত্বমূলক চুক্তি' এবং প্রায় ১০টি অন্যান্য চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করছেন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং লুকাশেঙ্কো সেপ্টেম্বর মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি সামরিক সমাবেশে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যেখানে কিম জং উন তাকে উত্তর কোরিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিম একটি চিঠিতে লিখেছেন, পূর্বপ্রচলিত বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা নতুন যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ও উচ্চ পর্যায়ে সম্প্রসারিত করতে আগ্রহী।

উভয় নেতা উভয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।

পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, এবং রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ সমর্থনসহ নানা কারণে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সৈন্য, আর্টিলারির গোলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট সিস্টেম পাঠিয়েছে।

পরিবর্তে রাশিয়া থেকে পেয়েছে আর্থিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি, যা পিয়ংইয়ংকে দীর্ঘমেয়াদি প্রধান মিত্র চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করেছে।

২০২৪ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ২৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ায় সফর করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ব্ল্যাকমেইল ও সামরিক হুমকি থেকে পিয়ংইয়ংকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সফরের সময় দুই দেশ একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে একে অপরের উপর আক্রমণ হলে সামরিক সহায়তা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

বেলারুশও রাশিয়ার সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়েছে, বিশেষত ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে সহায়ক ভূমিকা নেওয়ার পর। লুকাশেঙ্কো তার তিন দশকের শাসনে দেশের মধ্যে যেকোনো মতভেদকে কঠোরভাবে দমন করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেলারুশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা করেছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও শান্তি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে দেশটি এখনও শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে কারাগারে রাখছে, যারা মূলত ২০২০ সালের নির্বাচনের পর গ্রেফতার হয়েছেন।

সূত্র: তাস

কেএম