জ্বালানি সংকটে তেল ব্যবসায়ীদের দুষলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য তেল ব্যবসায়ীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চারভিরাকুল। তিনি অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় জ্বালানি মজুত ও পাচার করাই এই সংকটের প্রধান কারণ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ জ্বালানি মজুত ও প্রতিবেশি দেশে পাচারের একাধিক ঘটনা শনাক্ত করেছে, যার ফলে দেশজুড়ে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ সমস্যার কারণে সরকারের প্রায় ৫০ বিলিয়ন বাথ (১.৪ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের সময় তেলের দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের মজুত ও পাচার অতিরিক্ত মুনাফার শামিল, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সারা দেশে জ্বালানি ঘাটতির বড় কারণ।
তিনি জানান, স্থল ও সমুদ্রপথে বড় ও মাঝারি তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে মজুতদারি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি সরবরাহ বিলম্ব করা হয়েছে, যাতে খুচরা মূল্য বাড়ার পর তা বিক্রি করা যায়। আবার কিছু চালান অন্যত্র সরিয়ে মজুত করা হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডে সমুদ্রপথে পরিবহনের সময় ৫৭ মিলিয়ন লিটারের বেশি জ্বালানির কোনো হদিস মিলছে না।
ঘটনাটি বিশেষ মামলা হিসেবে তদন্ত করছে দেশটির বিশেষ তদন্ত বিভাগ।
গত মার্চের শেষ এবং এপ্রিলের শুরুতে ধারাবাহিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পর জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বর্তমানে থাইল্যান্ডে জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে ভিয়েতনামেও জ্বালানির দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৪৬,২০০ ডং-এ পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি জরুরি তহবিল ব্যবহার ও পরিবেশ কর বাতিল করেছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম