ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

স্বাস্থ্য-কৃষিতে কাটছাঁট, যুদ্ধের জন্যে ‘ঐতিহাসিক’ প্রতিরক্ষা বাজেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:৩৯ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ অর্থবছরের দেড় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছেন। বাজেটের এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়কার ঐতিহাসিক ব্যয় বৃদ্ধির কাছাকাছি।

প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালে মোট ফেডারেল ব্যয় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন। একই সঙ্গে ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক) ব্যয়ে বড় ধরনের কাটছাঁটের আহ্বান জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত বাজেট সংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী, এই পরিকল্পনায় ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ঐচ্ছিক প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বাধ্যতামূলক তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মিলিয়ে মোট প্রতিরক্ষা বাজেট দাঁড়াবে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা বহির্ভূত ঐচ্ছিক ব্যয়ে ১০ শতাংশ হ্রাসের প্রস্তাব দিয়েছে, যা প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলারের সমান। এর মাধ্যমে ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি কমিয়ে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর নীতিকে আরও জোরদার করছেন।
ট্রাম্প এই বাজেট প্রস্তাবে কৃষি বিভাগে ১৯ শতাংশ,স্বাস্থ্য বিভাগে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ কমানো,পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থায় ৫২ শতাংশ কাটছাঁট করার কথা বলেছেন।

এছাড়া মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বাজেটে ২৩ শতাংশ কাটছাঁটের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৪০টি বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি বন্ধ হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে প্রশাসন ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থেকেই এই বাজেট বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। এই প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

তবে কংগ্রেস সব প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমানোর বিষয়টি পুরোপুরি অনুমোদন দেবে বলে মনে করা হচ্ছে না। তবুও এই বাজেট প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে আসন্ন অর্থনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করবে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসনের ব্যয় অগ্রাধিকার স্পষ্ট করবে।

প্রতিরক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বাজেট ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এতে সামরিক সদস্যদের জন্য ৫ থেকে ৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। 

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার সময় ফেডারেল ব্যয় কমানো এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বের ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ককে এ কাজে যুক্ত করেন, যার উদ্যোগে প্রায় ৩ লাখ মানুষ ফেডারেল চাকরি হারান।

তবে এরপরও বাজেট ঘাটতি বেড়েই চলেছে। নিরপেক্ষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি অর্থবছরে ঘাটতি হবে ১ দশমিক ৮৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের ১ দশমিক ৭৭৫ ট্রিলিয়নের চেয়েও বেশি।

দেশটির মোট ঋণ ৩৯ দশমিক ০১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় সরকারের সময়েই বেড়েছে। কারণ, বাজেটের বড় অংশ বাধ্যতামূলক ব্যয়, আর মোট বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কংগ্রেস সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবে আরও রয়েছে—

১)‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

২) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের মজুদ গড়ে তোলা

৩) ৩৪টি নতুন যুদ্ধ ও সহায়ক জাহাজ নির্মাণে ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার

এছাড়া ‘ট্রাম্প ক্ল্যাস’ যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণের জন্যও তহবিল রাখা হয়েছে।

এছাড়া বিচার বিভাগে ১৩ শতাংশ বাজেট বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ২ শতাংশ ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, জালিয়াতি রোধের মাধ্যমে বাজেট ভারসাম্য আনা সম্ভব, যদিও বিশেষজ্ঞরা এতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: নিউইউর্ক টাইমস

কেএম