ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

স্পেন সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই পরিকল্পনা এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন স্পেনের অনেক ইউরোপীয় প্রতিবেশী দেশ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ন্যায়বিচারের পদক্ষেপ’ ও স্পেনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পেনবাসীর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে সানচেজ বলেন, এই গণবৈধতা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বাস্তবতাকে স্বীকার করা, যারা এরই মধ্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছেন।

তবে স্পেনের রক্ষণশীল বিরোধী দল পিপলস পার্টি (পিপি) এই উদ্যোগ ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের দাবি, এটি অবৈধ অভিবাসীদের পুরস্কৃত করবে ও আরও মানুষকে অবৈধভাবে আসতে উৎসাহিত করবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য আবাসন অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এর জন্য আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা এরই মধ্যে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে অবস্থান করেছেন ও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। আবেদন করার সময়সীমা ১৬ এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সানচেজ বলেন, অভিবাসীরা আমাদের সমৃদ্ধ, উন্মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় স্পেন গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন এবং আমরা যে স্পেনের আকাঙ্ক্ষা করি, তাতেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যার দেশে অর্থনীতি ও জনসেবা টিকিয়ে রাখতে এসব অভিবাসীর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে ভালো সুযোগের খোঁজে নিজেদের নাগরিকদের বিদেশে পাড়ি জমানোর অভিজ্ঞতার দিকটিও তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ সিদ্ধান্ত সেই প্রেক্ষাপটেও সঠিক।

গবেষণা সংস্থা ফুংকাস-এর হিসাব অনুযায়ী, স্পেনে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই লাতিন আমেরিকার বাসিন্দা।

বলিভিয়ার এক গ্রাফিক ডিজাইনার রিকার্ডো বলেন, এই উদ্যোগ অনেক মানুষের উপকারে আসবে, তাদের কাজের সুযোগ ও উন্নত জীবনের মান নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, এর ফলে স্পেন সরকার বেশি রাজস্ব পাবে এবং নিয়োগদাতাদের জন্য আরও বেশি বৈধ কর্মী পাওয়া যাবে।

এদিকে, বিরোধীরা দাবি করেছে, সরকারের হিসাব সঠিক নয় এবং প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করতে পারেন। পিপি এই পরিকল্পনাকে ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ক্যাথলিক চার্চ এই আইনি উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।

এর আগে সমাজতান্ত্রিক ও পিপি- উভয় সরকারের আমলেই অভিবাসীদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার নজির রয়েছে। সর্বশেষ ২০০৫ সালে সমাজতান্ত্রিক সরকারের অধীনে ৫ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ আবাসিক মর্যাদা পেয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ