মানবতাবিরোধী অপরাধ
ইনুর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
আদালতে হাসানুল হক ইনু/ফাইল ছবি
জুলাই আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হতে পারে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে ইনুর আইনজীবী এ মামলায় মোট ১৭০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র পড়তে ও প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য আট সপ্তাহ সময় আবেদন করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল আইনজীবীকে হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে তিনদিন দুই ঘণ্টা করে কথা বলার অনুমতি দেন। এরপর গত ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৩ অক্টোবর দিন ঠিক করেন।
ট্রাইব্যুনালে ওইদিন ইনুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি অভিযোগ গঠন না করার বিরুদ্ধে শুনানির প্রস্তুতির জন্য সময় চান। নাজনীন নাহার বলেন, ১৭০০ পৃষ্ঠার নথিপত্র দেখে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এ কারণে আট সপ্তাহ সময় লাগবে। পরে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ২৩ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেন।
প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম বলেন, এর আগেও আসামিপক্ষকে প্রস্তুতির জন্য সময় দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় ইনুকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন আদালত। একই দিন ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় সহযোগিতাসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর শুনানিতে আটটি অভিযোগ উপস্থাপন করেন প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, আজ ২৯ সেপ্টেম্বর এ মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য এ দিন ঠিক করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি হাসানুল হক ইনু আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দেন। তিনি আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ইত্যাদি সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দিয়ে উসকানি দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে সায় দেন।
আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকার কারফিউ জারি করে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে হত্যাসহ নির্যাতনকে কৌশলে সমর্থন দেন। আন্দোলন দমনে গুলি, বোম্বিং ও হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন। এসব পরিকল্পনা কার্যকর করতে হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সম্পৃক্ত থাকাসহ আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে ইনুর বিরুদ্ধে।
এফএইচ/এমকেআর/এএসএম