ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

অ্যাটর্নি জেনারেল

৫ আগস্টের পর বিচার বিভাগ হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পায়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:৫১ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিচার বিভাগে সুবিচারের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছিল। বিচার বিভাগ অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার হয়েছিল। তবে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের পর বিচার বিভাগ হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পায়।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিচারপ্রার্থী অসহায়, নিপীড়িত মানুষের আহাজারি আদালতের মনে আঁচড় কাটতে পারেনি। ফলে বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে। নারী, পুরুষ এবং শিশুদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিচার বিভাগ সেই অত্যাচারিত মানুষের পাশে ন্যায়ের ঝান্ডা নিয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচারকক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

আরশাদুর রউফ বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল আদালত। যার জন্য জুডিশিয়াল রিভিউয়ের ক্ষমতা উচ্চ আদালতের কাছে রাখা হয়েছে। কিন্তু বিগত স্বৈরশাসনের সময়ে সেখানে অসহায় মানুষের ঠাঁই হয়নি।গত পনের বছরে বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতিতে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। বিচারের কারণবিহীন দীর্ঘসূত্রিতা এবং উদ্দেশ্যমূলক অতিদ্রুত বিচার দুটিই বিচার বিভাগকে আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল। বিচার বিভাগ তার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে বিচার বিভাগ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার কবর রচিত হয়। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের পর এক অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে যায়। বিচার বিভাগ হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পায়।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি। দুর্নীতির এই বিষবাষ্প বিচারকার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আক্রান্ত করেছে। জাতি প্রত্যাশা করে বিচার বিভাগ সিন্ডিকেট মুক্ত হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক। দুর্নীতির প্রচলিত ধারণায় অর্থনৈতিক লেনদেনকে বোঝালেও, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক, অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ, ক্যানসারের চেয়েও মরণঘাতী। সুতরাং, শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের নিরীক্ষক বিচার বিভাগ। যখন অন্য দুই অঙ্গ এড়িয়ে যায়, ভুল করে, অন্যায় বা অবৈধ কোনো কিছু করে; তখন বিচার বিভাগ সাড়া দেয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করে। যত বাধা আসুক, বিচারকের ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। অনুরাগ বা বিরাগ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। বিচারকরা সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ থেকে সত্যকে ছেঁকে তোলার কাজটি করেন। এভাবেই সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য নিজেদের প্রথমে সততা ও নিষ্ঠার প্রশ্নে মানোত্তীর্ণ হতে হবে। আর কখনো যেন বিচার বিভাগ তার পথ না হারায়, অনাকাঙ্ক্ষিত সমালোচনার শিকার না হয়, অপ্রত্যাশিত আক্রমণের শিকার না হয় বা স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থের কেন্দ্রে পরিণত না হয়, সে দিকে সব স্তরের সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষ সচেতন থাকবে বলে আশা করি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতি, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুইয়া ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক সিনিয়র আইনজীবী, অ্যাটর্নি কার্যালয়ের ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ২৮ ডিসেম্বর দেশের ২৬ তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

এফএইচ/এএমএ/জেআইএম