এপিসি থেকে ফেলে ইয়ামিনকে হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
মৃত ভেবে এপিসি থেকে ইয়ামিনকে রোস্তায় ফেলে দেয় পুলিশ, ডানে শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঢাকার সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে শিক্ষার্থী শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যাসহ ২২ জনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। এ সময় প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও বি এম সুলতান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার ট্রাইব্যুনালকে বলেন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে জন্য চার সপ্তাহ সময় চাই। পরে আদালত এ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে দাখিলের জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।
এদিন মামলার ১৫ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা সাত আসামি ট্র্যাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি নির্ধারিত দিনে সকালে সাত আসামিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মাসুদ মিয়া। আট আসামি এখনো পলাতক।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যোগ দেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাইখ আসহাবুল ইয়ামিন। সেদিন দুপুরে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহীদ ইয়ামিনের নিথর দেহ পরে পুলিশের এপিসির ওপরে রাখা হয় এবং সেখান থেকে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় সবমিলিয়ে ২২ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এফএইচ/ইএ/জেআইএম