হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে হাজতখানায় ইভ্যালির রাসেল
আদালতে হাজিরার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে আবারও তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা শেষে তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ সদস্যরা ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তাকে ইসিজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মূলত রাসেল এনজাইটি সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এনজাইটি বা উদ্বেগ হলো এক ধরনের মানসিক অবস্থা যা ভয়, দুশ্চিন্তা বা অস্থিরতা থেকে তৈরি হয় এবং যার ফলে শারীরিক ও মানসিক চাপ অনুভূত হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি এনজাইটি ডিসঅর্ডার বা উৎকণ্ঠাজনিত ব্যাধি হিসেবে ধরা হয়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ঘুম না হওয়া এবং অতিরিক্ত চিন্তা অন্তর্ভুক্ত।
সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে প্রাথমিক পরীক্ষা ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনা শেষে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর রিকশা করে পুলিশ তাকে হাজাতখানায় ফেরত পাঠায়।
পুলিশের দাবি, রাসেল প্রাথমিকভাবে অচেতন ছিলেন, তবে প্রেসারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বাভাবিক ছিল। কিছু পুলিশ সদস্য মনে করেন তিনি আংশিকভাবে অভিনয় করছেন। তবে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা তথ্য দিলেও, তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আরও পড়ুন
আদালতে অসুস্থ ইভ্যালির রাসেল, নেওয়া হলো হাসপাতালে
এদিন দুপুরে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ঢাকা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৭ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৩–এ হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক মিনাজ উদ্দীন শুনানি শেষে দুজনকেই সাজা কার্যকরের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী শামীমাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়, কিন্তু রাসেল অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ধানমন্ডি এলাকা থেকে মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ পাহারায় তাদের আদালতে হাজির করা হয়। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাসেলের বিরুদ্ধে শুধু ধানমন্ডি থানায় নয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক ওয়ারেন্ট রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, রাসেল ও শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৯১টি ওয়ারেন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে শামীমা নাসরিন ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এবং রাসেল ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে জামিনে মুক্তি পান।
এমডিএএ/বিএ