ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

চিফ প্রসিকিউটর

কার গুলিতে কে মারা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রমাণের দরকার নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও লঘুদণ্ড ন্যায়বিচারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে গুলি করেছিল, সেটা প্রমাণিত। ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক অ্যাটাক প্রমাণিত। মানবতাবিরোধী অপরাধও প্রমাণিত। তারপরও অল্প সাজা দেওয়াটা ন্যায়সঙ্গত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এটা কোনো সাধারণ মার্ডার নয়। মার্ডারের ক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হবে কার গুলিতে কে মারা গেছে। হাজার হাজার রাউন্ড বুলেট নিক্ষিপ্ত হয়েছে, শত শত, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে, হাজারও মানুষ শহীদ হয়েছে। সেখানে কার গুলিতে কে মারা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে তা প্রমাণের দরকার নেই। সেটা প্রমাণিত না হওয়ার কারণে কেউ সাজা থেকে রেহাই পেতে পারে না, এটা আইনের বিধান; আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি। সুতরাং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মনে করি, এটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পাঁচজনের স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এই মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর।

তাজুল ইসলাম বলেন, যাদের গুলি বর্ষণ করতে ভিডিওতে দেখা গেছে, যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু ছিল না, অথচ তারা অন্যদের রাইফেল নিয়ে গুলি করেছে। তাদের কম সাজা দেওয়া হয়েছে। যদিও আদালতের আদেশ শিরোধার্ধ, আমাদের মানতে হবে। যেহেতু আপিলের ফোরাম আছে, কম সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আমরা আপিল করবো। আমরা মৃত্যুদণ্ড চাইবো।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইনে বলা হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনাল অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অথবা অন্য কোনো সাজা দিতে পারবেন। সুতরাং, প্রথম সাজা মৃত্যুদণ্ড, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্য কোনো সাজা অবশ্যই দিতে পারবেন। কিন্তু বিবেচ্য বিষয়, যাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী যথার্থ হলো কি না।

তার মতে, এই রায়ের বার্তা হচ্ছে, সবাইকে আইন মানতে হবে, কেউ আইনের ঊর্ধে নয়। কোনো বেআইনি কমান্ড মানতে রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বাধ্য নয়। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আইন অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ যদি আপনাকে বেআইনি কাজ করতে নির্দেশ দেয়, আপনি সেটা অমান্য করবেন। কারণ সেটি মানতে আপনি বাধ্য নন। এটাই আইনের মেসেজ। কেউ চাকরি বা প্রমোশনের লোভে ঊর্ধতন কর্মকর্তার অন্যায় আদেশ পালন করে যদি কোনো অপরাধ করেন, তিনি পার পাবেন না। তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। আদালতের রায়ে এই মেসেজ দেওয়া হয়েছে।

এফএইচ/এএমএ