চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি
বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তির বৈধতার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি সোমবার
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির বিষয়ে করা রুল খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দেন চেম্বার জজ আদালত। আদালতে আপিল আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির বিষয়ে করা রুল খারিজ করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রিটের বিষয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিভক্ত রায়ের পর সেদিন রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ। এর মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রিট খারিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
আদালতে ওইদিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল অনীক আর হক। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী শুনানি করেন। বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন।
রায়ের বিষয়ে রিট আবেদনকারীর অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, হাইকোর্টের একক বেঞ্চ রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে রায় দিয়েছেন। রিট খারিজের সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। আদালত বলেছেন লিভ টু আপিল করার জন্য।
এর আগে রিট আবেদনটির ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ দ্বিধা-বিভক্ত রায় দেন। দ্বৈত বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেন। দ্বৈত বেঞ্চের অপর বিচারপতি রুল ডিসচার্জ (রিট খারিজ) করে রায় দেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রধান বিচারপতি গত ১৫ ডিসেম্বর রিট নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। শুনানি শেষে আজ রুল ডিসচার্জ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হলো।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বৈধ
চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা
ঘোষিত রায়ে বলা হয়, দুবাই সরকারের পক্ষে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়, যা আইনগতভাবেই হয়েছে।
রায়ে বলা হয়, যে প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম এগোচ্ছে তা ২০১৭ সালের প্রকিউরমেন্ট পলিসি ও সমঝোতা স্মারকের অধীনে। পলিসিতে কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি বাছাই বা নির্বাচন করার সুযোগ আছে। আবার দরপত্রের কথাও রয়েছে। আইন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। এখানে আইন চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। রিট অপরিপক্ব উল্লেখ করে ঘোষিত রায়ে আরও বলা হয়, কাউকে এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
রায়ের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের পিপিপি অ্যাক্ট, ২০১৭ সালের জিটুজি পলিসি ও ২০১৮ সালের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন, অর্থাৎ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে রায়ে এসেছে। এখানে আইনবহির্ভূত কিছু নেই। আর ডিপি ওয়ার্ল্ড সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারেরই কোম্পানি।
এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি-সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন ২০২৫ সালে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দ্বিধা বিভক্ত রায় দেন।
২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।
এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। চালু এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।
২০০৭ সালে এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।
এফএইচ/কেএসআর
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তির বৈধতার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি সোমবার
- ২ ‘ভুলবশত’ মুক্তি পাওয়া ৩ আসামিকে ফের কারাগারে পাঠানোয় লিগ্যাল নোটিশ
- ৩ আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে ইবি রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি
- ৪ নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চেয়ে রিট
- ৫ কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: ৫ জনের রায় কবে জানা যাবে ১৫ ফেব্রুয়ারি