ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

চিফ প্রসিকিউটর

সরকার পরিবর্তন হলেও ট্রাইব্যুনালে চলমান বিচারে প্রভাব পড়বে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:৫০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচারে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা ও রামপুরায় দুইজনের হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে কারফিউ জারি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গণভবনে বৈঠকসহ হত্যাকাণ্ডে উসকানি ও সহায়তার পাঁচটি অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে সূচনা বক্তব্য দেন তাজুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।  

সূচনা বক্তব্য শেষে মামলায় প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

গত ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, গণঅভ্যুত্থান দমনে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত সহিংসতার সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ষড়যন্ত্র করা হয় এবং ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র কর্মীরা একাধিক স্থানে হামলা চালায়। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, তাতে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৩০ জন নিহতের তথ্য প্রসিকিউশন থেকে দাবি করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন আরও জানায়, সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকলেও সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। আদালতে উপস্থাপিত টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনার প্রমাণ রয়েছে।

তবে আসামিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, উপস্থাপিত প্রমাণ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আটক করা হয়। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। ট্রাইব্যুনাল গত ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়।

এফএইচ/এমএএইচ/