ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

হাজারীবাগে হত্যা: স্ত্রী ও সহযোগীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৪২ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় প্রায় ছয় বছর আগে সংঘটিত সোহেল হাওলাদার হত্যা মামলায় তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফাহিম পাঠানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

রায় ঘোষণার সময় ফাহিম পাঠানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে পলাতক থাকায় শিল্পী বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্য বসিলা এলাকা থেকে সোহেল হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন হাজারীবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শিল্পীর তৃতীয় স্বামী ছিলেন সোহেল। তাদের সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন শিল্পীর ছেলে সিজান মাহমুদ। সোহেলের সঙ্গে সিজানের সম্পর্ক ভালো ছিল না এবং মারধরের অভিযোগও ছিল।

এছাড়া সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সোহেল সিজানের বাবার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। চাকরি না হওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়।

২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শিল্পী শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ান এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে। পরে সিজান ও ফাহিম বাসায় এসে তাকে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয় মধ্য বসিলা এলাকায়।

২০২২ সালের ২৪ জুলাই পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সিজান অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পৃথক দোষীপত্র দিয়ে শিশু আদালতে বিচার চলছে।

২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল শিল্পী বেগম ও ফাহিম পাঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় দেন। 

এমডিএএ/এমআরএম