ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

ইকবাল করিম

সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল সঠিক হিসাব বলতে পারবো না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ০১ মার্চ ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের এক সাক্ষীর জেরা চতুর্থ দিনের মতো শেষ করা হয়েছে। পরবর্তী জেরার জন্যে আগামী ৩ মার্চ দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (১ মার্চ) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন মামলার আসামি জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জেরায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কতজন গুম হয়েছিল, তার সঠিক হিসাব বলতে পারবো না। যারা গুম হয়েছিল তাদের কাউকে আমি উদ্ধারের চেষ্টা করিনি। কারণ এটা আমার দায়িত্বাধীন ছিল না এবং আমি জানতাম না, কে কখন কোথায় গুম হয়েছে।’

জেরায় ইকবাল করিম আরও বলেন, ‘কে বা কারা গুম হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর (এমআই) কোনো তথ্য দিতে পারে নাই। তবে গুম হচ্ছে মর্মে তারা আমাকে জানিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় রোববার (১ মার্চ) চতুর্থ দিনের মতো সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করা হয়। তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি শেষ করার পর তাকে প্রথম দফায় জেরা করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনির জেরায় সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, গুমের সংস্কৃতি প্রতিরোধ করতে আমি অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ মর্মে দালিলিক কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করিনি। দালিলিক কোনো প্রমাণ নেই। গুম প্রতিরোধের জন্য সুপার চিফ বা প্রধানমন্ত্রী বরাবরে চিঠি পাঠাইনি বা তাকে লিখিতভাবে জানাইনি।

ইকবাল করিম আরও বলেন, ‘যে কনিষ্ঠ অফিসার র‍্যাব থেকে প্রত্যাবর্তনের পর আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমার অফিসে আসেন, তার নাম স্মরণ নেই। কত তারিখ তিনি আমার কাছে এসেছিলেন, স্মরণ নেই। এই কনিষ্ঠ অফিসার দুজনকে হত্যা করেছেন মর্মে আমার কাছে স্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। এই মর্মে কোনো সাক্ষী বা আলামত ছিল না। তার এ রূপ স্বীকারোক্তি আমি রেকর্ড করিনি। তিনি প্রতিটি হত্যার জন্য প্রাপ্ত যে ১০ হাজার টাকা মসজিদে দান করেছেন, সে জন্য তাকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়নি।’ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

এফএইচ/এমআইএইচএস