অর্থপাচার: সালমান এফ রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ
অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত/ছবি জাগো নিউজ
নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পণ্য রপ্তানির আড়ালে প্রায় ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দুই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। তদন্তে উঠে এসেছে, একই পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততায় গড়ে ওঠা এই লেনদেনের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে রপ্তানি মূল্য দেশে আনা হয়নি।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজেরর আদালতে অভিযোগপত্রগুলো গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজে বলেন, রপ্তানির নামে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনুসন্ধানে জানতে পারে, বেক্সিমকো গ্রুপের অটাম লুপ অ্যাপারেলস লিমিটেড এবং পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেডের মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। অটাম লুপ অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখা থেকে তিনটি এলসির বিপরীতে পণ্য রপ্তানি করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৮ লাখ ৩২ হাজার ৪২৮ মার্কিন ডলার দেশে আনা হয়নি।
অন্যদিকে, পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেডের মাধ্যমে দুটি এলসির বিপরীতে পণ্য রপ্তানি করে ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৮ লাখ ডলার বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সিআইডির তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আরআর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডই’-এর ঠিকানায় এসব পণ্য পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় রয়েছেন সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান (এ এস এফ রহমান) এবং এ এস এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমান। অর্থাৎ, একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান, অটাম লুপ ও পিয়ারলেস গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিউর রহমান, পরিচালক রেজিয়া আক্তার এবং আরআর গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমান।
মামলার বর্তমান অবস্থায় সালমান এফ রহমান ও ওয়াসিউর রহমান অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ দুই মামলায় তাদের নতুন করে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যা আদালত সোমবার আমলে নিয়েছেন।
এমডিএএ/বিএ