ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: আপিলে আসামিরা খালাস পাবেন আশা আইনজীবীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:২৭ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই বর্তমানে গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছেন।

এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ট্রাইব্যুনাল আজ শুধু রায়ের ডিগ্রি ও শাস্তির অংশ ঘোষণা করেছেন। পুরো লিখিত রায় এখনো পাওয়া যায়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর সেটি বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগের কাছে আপিল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘জাজমেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু আমরা বিস্তারিত শুনতে পাইনি। কেবল ডিগ্রি ও পানিশমেন্ট শুনতে পেয়েছি। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে মহামান্য আপিল বিভাগে আপিল করবো। আমরা বিশ্বাস করি, আপিলে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে এবং আসামিরা খালাস পাবেন।’

আজিজুর রহমান দুলু আরও বলেন, তিনি এই মামলায় তিনজন আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৯ নম্বর আসামি দুটি অভিযোগ থেকেই খালাস পেয়েছেন। তবে ৮ ও ৯ নম্বর আসামি এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের অপারেটিভ অংশ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীর ভাষ্য, মামলায় তারা লিখিত ও মৌখিক যুক্তিতর্কে যেসব ভিত্তিতে আসামিদের খালাস চেয়েছিলেন, সেসব বিষয় এখনো পরিষ্কার হয়নি। কারণ ট্রাইব্যুনাল কেবল ‘সাবস্ট্যান্স অব ফাইন্ডিং’ এবং ‘অপারেটিভ পার্ট অব দ্য জাজমেন্ট’ ঘোষণা করেছেন।

উল্লেখ্য, রংপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ইএআর/এমএমকে