ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

হাজত বাসের একজনকে মুক্তি

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে ৩০ জনের কার কী দণ্ড

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে গ্রেফতারের পর থেকে আজ (রায় ঘোষণার পর) পর্যন্ত হাজত বাসের পর মুক্তি দেওয়ার জন্য বলেছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেফতার আছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই  রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাাকা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, তার হাজতবাসকালীন সময়কে সাজার মেয়াদ গণ্য করে দণ্ডাদেশ দেওয়া হলো। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে তার সাজার মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে বিবেচনায় তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হলো।

রায়ের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র)বিভূতিভূষণ রায়। তারা সবাই পলাতক।

তিনি জানান, মামলায় মোট ৩০ আসামির মধ্যে বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পলাতক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ ওরফে বাচ্চুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, গ্রেফতার রাফিউল হাসান রাফেল (গ্রেফতার) ও হাফিজুর রহমান রাসেল পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, আরপিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলায় সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

এফএইচ/এমআইএইচএস/