দেশীয় অস্ত্রে নুর ও তার সঙ্গীদের হত্যার চেষ্টা করে হামলাকারীরা
>> নুরদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজন ৩ দিনের রিমান্ডে
>> মামলার এজাহার গ্রহণ, প্রতিবেদন ৪ ফেব্রুয়ারি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর গত রোববার (২২ ডিসেম্বর) হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার শাহবাগ থানার নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ রইচ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হত্যার চেষ্টায় দেশীয় অস্ত্রে নুরদের ওপর হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাবি শাখার সভাপতি এ এস এম সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য, এ এফ রহমান হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, কবি জসিম উদ্দিন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ (হল থেকে অস্থায়ী বহিষ্কৃত), জিয়া হল শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম মাহিম ও মাহবুব হাসান নিলয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মামুন, বুলবুল গ্রুপের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী গত রোববার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে টেলিনর কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি বরাবর উকিল প্রদানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করে মামুন ও বুলবুলের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

মধুর ক্যান্টিনে যাওয়ার পথে ডাকসু ভবনের সামনে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ভিপি নুরুল হক নুরসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা মামুন, রাশেদ ও ফারুকসহ আরও ২০-২৫ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে যুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বর্ণিত (এজহার নামীয়) নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য ও ইটপাটকেল বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে ভিপি নুরসহ তার সঙ্গীরা ডাকসু ভবনে প্রবেশ করেন। তখন মামলার এজাহারনামী ৮ আসামিসহ আরও ৩০-৩৫ জন আসামি লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবৈধ জনতাবদ্ধে ডাকসু ভবনে ঢুকে ভিপি নুর ও তার সহযোগীদের এলাপাতাড়িভাবে মারধর শুরু করে। এ সময় ডাকসু ভবনে নুরের কক্ষের জানালার কাচঁ, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মারামারিতে অংশ নেয়া মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মী হত্যার উদ্দেশ্যে ডাকসুর ভিপি নুরসহ তার সঙ্গীয় অন্যান্য নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীসহ প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং প্রক্টর টিমের সহযোগিতায় ভিপি নুরসহ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আসামিরা ‘অবৈধ জনতাবদ্ধে’ ডাকসু ভবনে অনাধিকার প্রবেশ করে করে হত্যার উদ্দেশ্যে নুরদের ওপর হামলা ও কক্ষে ভাঙচুর করে পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/১০৯ অপরাধ করায় মামলা করে পুলিশ।
এদিকে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে ঘুরে-ফিরে তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনায় সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও ইন্ধনদাতাদের ব্যাপারে এখনো সরাসরি কিছু বলা হচ্ছে না। নুর তাদের ওপর গত রোববারের ওই হামলার পেছনে তিনজনকে ইন্ধনদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ভিপি নুরের ওপর হামলা : প্রতিবেদন ৪ ফেব্রুয়ারি
ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সহযোগীেদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাইনুল ইসলাম মামলার এজাহারটি গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
এদিকে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্য ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য ও মেহেদি হাসান শান্ত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাইনুল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন তাদের শাহবাগ থানায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে এবং পলাতক আসামিদের শনাক্তসহ গ্রেফতারের লক্ষ্যে তাদের পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
আসামিদের মধ্যে গতকাল সোমবার গ্রেফতার হন দুজন। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য ও মেহেদি হাসান শান্ত।
জেএ/এমএসএইচ/এমএস
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ তুরস্কে চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়, কারাগারে ৫ প্রতারক
- ২ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের মুক্তি প্রক্রিয়া আটকে গেলো
- ৩ ১২ শতাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর বিষয়ে হাইকোর্টের রুল, ইতিবাচক বার্তা
- ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মানহানির অভিযোগ, আদালতে মামলা
- ৫ বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন