ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

তালগাছ কাটায় সেই ইউপি চেয়ারম্যানকে অপসারণের নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৫৬ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৩

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সড়ক সংস্কারের নামে বন বিভাগের লাগানো ৩০টি তালগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোবাহান হাওলাদারকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন আদালত।

একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ফজলু গাজী ও মেম্বার সোবাহান হাওলাদারকে দুই লাখ টাকা করে জারিমানা করেছেন আদালত। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ টাকা দিতে বলা হয়েছে। আর ইউএনওকে বলা হয়েছে, ওই টাকা দিয়ে তালগাছ কিনে ওই সড়কে রোপণ করতে। বাকি টাকা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যয় করতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রোববার (২৭ আগস্ট) বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আজ ফজলু গাজী ও মেম্বার সোবাহান হাওলাদারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান কচি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়া। অন্যদিকে পত্রিকার প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনেছিলেন আইনজীবী শেখ মো. সোহেল। আর প্রতিবেদন প্রকাশ করা পত্রিকাটির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার।

আরও পড়ুন: সড়কের তাল গাছ কাটায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে তলব

আইনজীবীরা জানান, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে অজুহাতে ৩০টি তালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ৪০টি গাছের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় পটুয়াখালীর দুই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আগামী এক মাসের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

গত ৬ মে একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে এক্সকাভেটর দিয়ে অন্তত ৩০টি তালগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। তালগাছগুলোর বয়স ছিল ২৫ থেকে ৩০ বছর। তালগাছের পাশাপাশি এ সড়কে বন বিভাগের রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির আরও অন্তত ৪০টি গাছের চারাও উপড়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোবাহান হাওলাদারের নির্দেশে এসব গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। সড়কের পাশে যারা এসব তালগাছ রোপণ করেছেন, তারা ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে মুখে কিছু না বললেও ভেতরে-ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন।

এতে আরও বলা হয়, পরিবেশ রক্ষায় ও বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে তালগাছ রোপণ করার জন্য প্রচার চালানো হলেও জনপ্রতিনিধিরা তা মানছেন না। শুধু তাই নয়, প্রকৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছায় লাগানো তালগাছগুলোও তারা রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না। উল্টো কেউ কেউ সেগুলোর ক্ষতিই করছেন। বীজ থেকে পরিপূর্ণ গাছ হতে দীর্ঘ সময় লাগে একটি তালগাছের। ফলে অনুমতি নিয়েও তালগাছ কাটার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। সেখানে অনুমতি ছাড়াই এতগুলো তালগাছ এক সপ্তাহ ধরে এক্সকাভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু কারও কোনো খবর হলো না? এসব গাছ বাঁচাতে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসনসহ কেউই এগিয়ে এলো না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

আরও পড়ুন: তালগাছ কাটায় চেয়ারম্যান-মেম্বারকে বরখাস্তের নির্দেশ

অনুমতি ছাড়াই সড়কের দুপাশের তালগাছ কাটার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারকে তলব করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের নামে বন বিভাগের লাগানো এসব তাল গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তার ব্যাখ্যাও চান আদালত। গত ৭ মে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

আদেশে ১৮ মে তাদের স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তা যৌথভাবে সরেজমিন তদন্ত করবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এরপর নির্ধারিত দিনে ১৮ মে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী ও স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোবাহান হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিপালন করতে বলেন আদালত। এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বরখাস্তের আদেশ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়।

এফএইচ/এমকেআর/জিকেএস