পটুয়াখালীতে সড়কের তাল গাছ কাটায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে তলব
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বন বিভাগের লাগানো ৩০টি তাল গাছ কাটা বা উপড়ে ফেলার ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের নামে বন বিভাগের লাগানো এসব তাল গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তার ব্যাখ্যাও চেয়েছেন আদালত।
আগামী ১৮ মে তাদের স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তা যৌথভাবে সরেজমিন তদন্ত করবেন করবেন।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে রোববার (৭ মে) বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট শেখ সোহেল রানা।
আইনজীবী শেখ মো. সোহেল আদেশের বিষয়টি জাগোনিাউজকে নিশ্চিত করেন।
পত্রিকায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বন বিভাগের লাগানো ৩০টি তাল গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলু গাজীর বিরুদ্ধে।
ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী ওই সড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছেন। তবে এলজিইডি বলছে, ইউপি চেয়ারম্যানকে সড়কের সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এজন্য তাকে কোনো গাছ কাটতে বলা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এলজিইডির জলবায়ুসহিষ্ণু গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থ মাটির রাস্তার সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছেন মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। সংস্কার কাজ করতে গিয়ে সড়কের উভয়পাশের অন্তত ২৫ বছরের পুরোনো ৩০টি তাল গাছসহ বন বিভাগের রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলেন ইউপি চেয়ারম্যান। এতে মাটির সড়কের সংস্কার কাজ হলেও পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী বলেন, সড়কটির সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় একজনের বাড়ির সামনের ৫-৭টি তাল গাছ কাটতে হয়েছে, যা তার সঙ্গে কথা বলে কাটা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান দাবি করেন, এসব গাছ ব্যক্তি পর্যায়ে লাগানো হয়েছে। বন বিভাগের কাছে অনুমতি চেয়ে একটি আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সড়ক সংস্কার কাজের জন্য বন বিভাগের লাগানো গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছেন। তার আবেদনটি পটুয়াখালীতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে গাছ নিলাম দিয়ে বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পর কাটার বিধান আছে। এর ব্যত্যয় হলে বন আইনে মামলা দায়ের করা হবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, সড়ক সংস্কার কাজ করতে আমরা চেয়ারম্যানকে গাছ কাটতে বলিনি। তিনি যদি কোনো গাছ কেটে থাকেন এ দায় তার।
নজিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস হাওলাদার (৬০) বলেন, নজিবপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত রাস্তার দুপাশের জমি থেকে মাটি কাটা মেশিন দিয়ে মাটি কেটে সড়ক সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এজন্য সড়কের দুপাশের পুরোনো তাল গাছ মাটি কাটার মেশিন দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে।
এফএইচ/এমকেআর/এএসএম