ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

স্কিন কেয়ার কাজ না করার কারণ হতে পারে বালিশের কভার

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:০৩ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

আমরা সবাই চাই আমাদের ত্বক থাকুক সুস্থ, পরিষ্কার ও উজ্জ্বল। সেই লক্ষ্যেই নানা ধরনের স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করি। তবু অনেক সময় নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও ত্বকে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। তখন কারণ খুঁজে পাওয়া যেন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ত্বকের যত্নে একটি খুব সাধারণ বিষয় প্রায়ই আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় তা হলো বালিশের কভার।

প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আমরা বালিশের ওপর মুখ রেখে ঘুমাই। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বালিশের কভারে জমে থাকা ঘাম, তেল, ধুলা ও ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। যদি বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে সেটিই ধীরে ধীরে ত্বকের নানা সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে,যার প্রভাব বোঝা যায় অনেক পরে, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক কী কী অসুবিধা তৈরি করতে পারে-

যে সমস্যা তৈরি করে
নোংরা বালিশের কভারে জমে থাকে ঘাম, তেল, ধুলা ও নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া। রাতে ঘুমানোর সময় এগুলো সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে এবং ত্বকের রোমকূপে জমে যেতে পারে। এর ফলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও দ্রুত এবং বেশি মাত্রায় দেখা যায়।

নিয়মিত স্কিন কেয়ার করেও ত্বক ক্লান্ত ও নিষ্প্রভ দেখানো পেছনেও দায়ী হতে পারে নোংরা বালিশের কভার। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা কভার ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়, ফলে ভালো মানের পণ্য ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

এছাড়া বালিশের কভারে জমে থাকা ধুলাবালি ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি করতে পারে। চুলকানি, লালভাব, ফুসকুড়ি কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।

নোংরা বালিশের কভারে ঘুমানোর ফলে ত্বক বালিশের সংস্পর্শে আসে। এর প্রভাব পড়ে চোখ ও গালের চারপাশে, যেখানে সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা দ্রুত দেখা দিতে শুরু করে। ফলে ত্বক অকালে বয়স্ক দেখাতে পারে।

আরও একটি সমস্যা হলো, রাতে ব্যবহার করা ক্রিম বা সিরাম বালিশের কভারে লেগে যায়। এতে স্কিন কেয়ার পণ্যের কার্যকারিতা কমে যায় এবং ত্বক ঠিকমতো ময়েশ্চারাইজড বা রিপেয়ার হওয়ার সুযোগ পায় না।

তেল, স্প্রে ও ক্রিমের মতো চুলের পণ্য ব্যবহার করার পর তার অনেকটাই বালিশের কভারে লেগে থাকে। রাতে ঘুমানোর সময় সেই বালিশের কভার আবার সরাসরি মুখের ত্বকের সংস্পর্শে আসে। ফলে চুলের পণ্যে থাকা তেল ও কেমিক্যাল ধীরে ধীরে ত্বকের রোমকূপে ঢুকে পড়তে পারে। বিশেষ করে সিলিকনযুক্ত চুলের পণ্য ত্বকের উপর একটি স্তর তৈরি করে, যা রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এতে করে গাল, চোয়াল, কপালে ব্রণ দেখা দেয়।

cdf

যা করতে হবে
ত্বক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই জরুরি। সপ্তাহে অন্তত দুইবার বালিশের কভার বদলানোর অভ্যাস করুন। সুতি, সিল্ক বা সাটিনের কভার ব্যবহার করলে ত্বকের সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয় এবং ব্রণ বা রুক্ষতার ঝুঁকিও কমে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন এবং চুল পরিষ্কার ও বেঁধে রাখুন, যাতে চুলের তেল বা ধুলা সরাসরি মুখের ত্বকে না লাগে।

অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য প্রতিদিন বালিশের কভারে হালকা করে টি ট্রি অয়েল, ল্যাভেন্ডার বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ব্যাকটেরিয়া জমার সম্ভাবনা কমে এবং ত্বক সুরক্ষিত থাকে। বিশেষ করে টি ট্রি অয়েলের প্রদাহ-বিরোধী গুণ ত্বককে শান্ত রাখতে এবং ব্রণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আরও বেশি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

সূত্র: এনডিটিভি, হেলথশটস ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
স্কিন ফাস্টিং কী, ত্বকের যে উপকার করে 
ইয়ামি গৌতমের ত্বকের রহস্য 

এসএকেওয়াই/

আরও পড়ুন