অগোছালো ঘর দেখে নারী রেগে গেলেও পুরুষের কিছু মনে হয় না কেন
ঘরে ঢুকেই যদি চারদিকে ছড়ানো জিনিসপত্র, এলোমেলো টেবিল বা অগোছালো রান্নাঘর চোখে পড়ে - বেশিরভাগ সময় নারীরা এতে প্রচণ্ড বিরক্ত হন। তবে এটি শুধু বিরক্তি নয়, এর পেছনে আছে শরীরের ভেতরের একেবারে বাস্তব জৈবিক প্রতিক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় লস অ্যাঞ্জেলেসের সেন্টার অন এভরিডে লাইভস অব ফ্যামিলিজ (সিইএলএফ) – এর একটি গবেষণা এই বিষয়ে বলছে, অগোছালো পরিবেশ নারীদের শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

কর্টিসল আমাদের শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন। মস্তিষ্ক যখন মনে করে কোনো দায়িত্ব অসম্পূর্ণ, কোনো চাপ এখনো মিটেনি - তখনই এই হরমোন নিঃসৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক নারী অবচেতনে ঘরের অগোছালো অবস্থাকে ‘পড়ে থাকা কাজ’ হিসেবে দেখেন। ফলে কোনো সক্রিয় চিন্তা না থাকলেও শরীর স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে।
কিন্তু পুরুষদের কিছু মনে হয় না কেন?
একই গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও উঠে এসেছে। একই রকম অগোছালো পরিবেশে পুরুষদের কর্টিসলের মাত্রায় তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে কাজ করে কগনিটিভ লোড ও সামাজিক ভূমিকার বিষয়টি। পরিবারে ঘর সামলানো, কাজের তালিকা মনে রাখা, মানসিক যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব অনেক সময় নারীর ওপর বেশি পড়ে। তাই অগোছালো পরিবেশ নারীদের কাছে শুধু দৃশ্য নয়, বরং একটি অসম্পূর্ণ দায়িত্বের সংকেত হয়ে ওঠে।

দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে থাকলে কর্টিসল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকে। এর প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবনে - সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, অল্পতেই রেগে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া, এমনকি মানসিক অবসাদও তৈরি হতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
গবেষকরা বলছেন, ঘর গোছানো মানে নিখুঁত সাজসজ্জা নয়। বিষয়টি সৌন্দর্যের চেয়েও বেশি মানসিক আরাম ও স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সঙ্গে জড়িত। অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমানো, চোখের সামনের বিশৃঙ্খলা কমানো - এসব ছোট পরিবর্তনই মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমায় এবং মানসিক শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করে।

অর্থাৎ, ঘর পরিপাটি রাখা কোনো বিলাসিতা নয়। অনেক নারীর জন্য এটি আসলে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার একটি বাস্তব উপায়।
সূত্র: ইউসিএলএ সেন্টার অন এভরিডে লাইভস অব ফ্যামিলিজ, পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিন ও এনভায়রনমেন্টাল সাইকোলজি বিষয়ক গবেষণা
এএমপি/এমএস