মুখ ও ঘাড়ে কতটুকু সানস্ক্রিন লাগানো উচিত?
ছবি: এআই
ত্বকের যত্নের পণ্যের তালিকায় সানস্ক্রিন সবচেয়ে জরুরি। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা ছাড়াও সানস্ক্রিন ত্বকের প্রাকৃতিক বাধা অটুট রাখে, ট্যানিং প্রতিরোধ করে এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি কমায়।
কিন্তু শুধু দামি বা বেশি এসপিএফ বোতল কিনলেই চলবে না। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার না করলে সানস্ক্রিন কার্যত কোনো কাজেই আসে না।
অনেকেই এসপিএফ ৫০ বা তার বেশি সুরক্ষাযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেও প্রত্যাশিত ফল পান না। এর প্রধান কারণ, তারা সঠিক নিয়মে বা সঠিক পরিমাণে সানস্ক্রিন লাগান না। বাস্তবতা হলো-পরিমাণ ঠিক না হলে আপনার সানস্ক্রিন যতই উন্নত হোক, তা ত্বককে পুরো সুরক্ষা দিতে পারবে না।
পরিমাণে কতটুকু ব্যবহার করবেন
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুরভীন ওয়ারাইচ জানিয়েছেন, সানস্ক্রিন ব্যবহারে সবচেয়ে বড় ভুল হয় পরিমাণ ঠিক না রাখা। দুই আঙুল বা তিন আঙুল-এই বিভ্রান্তি দূর করা জরুরি, কারণ সূর্য থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে সানস্ক্রিনের পরিমাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের আদর্শ নিয়ম অনুযায়ী, ত্বকের প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ২ মিলিগ্রাম সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।মুখ ও ঘাড় মিলিয়ে প্রয়োজন হয় প্রায় ১.৬ থেকে ১.৮ গ্রাম, যা প্রায় তিন আঙুলের সমান। তবে যদি শুধু মুখে সানস্ক্রিন লাগান, তাহলে দুটি আঙুল পরিমাণই যথেষ্ট।
কিন্তু সঠিক পরিমাণ না লাগালে সমস্যা শুরু হয়। মুখ ও ঘাড়ে তিন আঙুলের পরিবর্তে দুই আঙুল সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। অর্থাৎ বোতলে এসপিএফ ৫০ লেখা থাকলেও ত্বক তখন মাত্র এসপিএফ ৩০-এর মতো সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
আর যদি মাত্র এক আঙুল পরিমাণ সানস্ক্রিন লাগানো হয়, তাহলে ত্বক সর্বোচ্চ এসপিএফ ১০-১৫ পর্যন্ত সুরক্ষা পায়। শুধু তাই নয়, ইউভিএ সুরক্ষাও কমে গিয়ে পিএ ফোর প্লাস থেকে পিএ টু প্লাসে নেমে আসতে পারে।
মেকআপের মতো এখানে কম হলেও চলবে নিয়ম কাজ করে না। সানস্ক্রিনে সত্যিকারের সুরক্ষা পেতে হলে ঠিক পরিমাণে ব্যবহার করাই সবচেয়ে জরুরি।
প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগানোর উপকারিতা
প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এসপিএফ ৩০-যুক্ত সানস্ক্রিন যথেষ্ট কার্যকর। তবে যদি দীর্ঘ সময় রোদে থাকতে হয়, তাহলে এসপিএফ ৬০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। পানিভিত্তিক ও ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন হলে তা ত্বকের অন্য যত্নের পণ্যের সঙ্গে নিরাপদেই ব্যবহার করা যায়।
নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগালে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বজায় থাকে। এতে একজিমা, রোসেসিয়া ও ব্রণের ঝুঁকি কমে। সূর্যের ক্ষতিকর ইউভিবি রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত থাকায় ত্বকের ক্যানসারের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।
এছাড়া সানস্ক্রিন ত্বকে বাদামি দাগ, সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা ও পিগমেন্টেশনের মতো অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত, প্রতিদিনের স্কিন কেয়ার রুটিনে সানস্ক্রিন রাখা এখন আর বিলাসিতা নয়। এটি ত্বক সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে বেশ অপরিহার্য অভ্যাস।
সূত্র: এনডিটিভি, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, জনস হপকিন্স মেডিসিন
আরও পড়ুন:
ত্বকের বলিরেখা দূর করবে পেঁয়াজ কিন্তু কীভাবে
ভাঁজ থাকা চোখের পাতায় আইলাইনার দেওয়ার টিপস
এসএকেওয়াই/