বাড়ি ফাঁকা রেখে যাচ্ছেন? যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল করা জরুরি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ - সামনে রেখে টানা চারদিনের সরকারি ছুটিতে অনেকেই কর্মস্থলের আবাস ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরবেন আজ।
দীর্ঘ সময় বাসা ফাঁকা থাকলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় বাসার নিরাপত্তা - চুরি, অগ্নিকাণ্ড, গ্যাস লিকেজ কিংবা বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এ কারণে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে কিছু সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী জেনে নেওয়া যাক, কোন বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখবেন -
১. গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপদ করুন
বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা বন্ধ আছে কি না, তা শুধু একবার নয় - দুবার নিশ্চিত করুন। সম্ভব হলে মেইন গ্যাস লাইন বন্ধ করে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ। একইভাবে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সংযোগ, যেমন - হিটার, ইস্ত্রি, চার্জার বা মাল্টিপ্লাগ খুলে রাখুন। এতে অগ্নিকাণ্ড ও শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে।
২. দরজা-জানালার লক ও তালা পরীক্ষা করুন
বাসা ছাড়ার আগে সব দরজা ও জানালার তালা ঠিকভাবে লাগানো হয়েছে কি না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। অনেক সময় বাথরুম বা রান্নাঘরের জানালা খোলা থেকে যায়, চোরেরা এসব দুর্বল জায়গাতেই টার্গেট করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তালা বা গ্রিল ব্যবহার করুন।

৩. প্রতিবেশী ও কেয়ারটেকারকে জানিয়ে যান
আপনি কয়েকদিনের জন্য বাসা ফাঁকা রাখছেন - এই তথ্য বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেশী, কেয়ারটেকার বা বিল্ডিং ম্যানেজারকে জানিয়ে রাখুন। এতে সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত নজরে আসবে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশকে জানানো সম্ভব হবে।
৪. মূল্যবান সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিরাপদে রাখুন
নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জমির দলিল বাসায় ফেলে না রেখে নিরাপদ স্থানে রাখুন। চুরির ঘটনা ঘটলে এসব জিনিস উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম।
৫. রাতে আলো জ্বালিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন
পুরো বাসা অন্ধকার থাকলে চোরেরা সহজেই বুঝে ফেলে যে বাসা ফাঁকা। টাইমার লাইট বা বারান্দার একটি বাতি রাতে জ্বালানো থাকলে বাসায় লোকজন আছে - এমন ধারণা তৈরি হয়।
৬. ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম পরীক্ষা করুন
বাসায় যদি ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকে, তাহলে সেগুলো কার্যকর আছে কি না দেখে নিন। রান্নাঘরে দাহ্য বস্তু খোলা অবস্থায় রেখে যাবেন না।

৭. সামাজিক মাধ্যমে ভ্রমণের তথ্য শেয়ার না করাই ভালো
বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে বা যাত্রাপথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাসা ফাঁকা’ বোঝা যায় - এমন পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অনেক চুরির ঘটনার পেছনেই এই তথ্য কাজ করে।
৮. জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন
ফায়ার সার্ভিস (৯৯৯ বা স্থানীয় স্টেশন) এবং নিকটস্থ থানার নম্বর প্রতিবেশী বা কেয়ারটেকারকে জানিয়ে রাখলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
৯. সিসিটিভি
সম্ভব হলে বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে আপনার ফোন থেকে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে নিন। এতে সন্দেজনক কিছু ঘটরে আপনি অ্যালার্ট পাবেন ও জরুরি সাহায্য করতে পারবেন।
সূত্র: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট
এএমপি/জেআইএম