ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

ভালোবাসা ও বসন্ত উদযাপন কি সিঙ্গেলদের জন্য অদৃশ্য মানসিক চাপ

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৫১ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত দুটাই সাধারণত প্রেম, রং আর উদযাপনের প্রতীক। চারদিকে লাল-হলুদের সাজ, সামাজিক মাধ্যমে দম্পতিদের ছবি, অফার আর আয়োজনে যেন ভালোবাসার এক উৎসবমুখর সময়। কিন্তু যারা সিঙ্গল, তাদের জন্য এই সময়টা সবসময় একই রকম উচ্ছ্বাস নিয়ে আসে না। অনেকের কাছে এটি নিঃশব্দ মানসিক চাপেরও কারণ হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ স্বভাবতই সামাজিক তুলনায় অভ্যস্ত। সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সুখী মুহূর্ত বারবার দেখলে নিজের জীবনকে তুলনা করার প্রবণতা বাড়ে। ২০২২ সালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার একাকিত্ব ও আত্মমূল্যায়নের সমস্যাকে তীব্র করতে পারে (জার্নাল অব সোশ্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল রিলেশনশিপস)

ভ্যালেন্টাইন’স ডে-তে এই প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান হয়, কারণ অ্যালগরিদমে তখন প্রেমঘন কনটেন্টই বেশি ভেসে ওঠে।

cfg

বসন্তও অনেক সময় আবেগকে তীব্র করে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মেজাজের সম্পর্ক আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন এর সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার( স্যাড) নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। যদিও শীতকালে বিষণ্নতা বেশি দেখা যায়, বসন্তে সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ বা ফোমো বাড়তে পারে। চারপাশে সবাই যখন বাইরে ঘুরছে, উৎসবে যোগ দিচ্ছে, তখন সিঙ্গল কেউ নিজেকে আলাদা বা পিছিয়ে পড়া মনে করতে পারেন।

তবে সিঙ্গল থাকা মানেই একাকিত্ব নয়। ২০১৭ সালে জার্নাল অব পজিটিভ সাইকোলজি-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সিঙ্গল ব্যক্তিরা অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আত্মউন্নয়ন এবং সামাজিক সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর থেকে ইতিবাচক উপকার পান। অর্থাৎ সম্পর্ক না থাকলেও মানসিক সুস্থতা সম্ভব, যদি ব্যক্তি নিজের জীবনযাপন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন।

gtu

সমস্যা তৈরি হয় মূলত সামাজিক প্রত্যাশা থেকে। আমাদের সংস্কৃতিতে নির্দিষ্ট বয়সের পর সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে চাপ তৈরি হয়। ভ্যালেন্টাইন’স ডে-র মতো দিনগুলো সেই চাপকে সাময়িকভাবে বাড়িয়ে তোলে। বসন্তের রোমান্টিক আবহও অনেককে মনে করিয়ে দেয় আপনি একা আছেন জীবনে কিছু জিনিসের ঘাটতি রয়েছে? এই প্রশ্ন থেকেই মানসিক অস্বস্তি জন্ম নেয়।

এই সময়টাকে ইতিবাচকভাবে কাটানোর উপায়ও আছে। নিজের পছন্দের কাজ করা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারকে সময় দেওয়া কিংবা নিজেকে ছোটখাটো উপহার দেওয়া-এসবই আত্মসম্মান বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা ‘সেলফ-কমপ্যাশন’ বা আত্ম-সহানুভূতির কথা বলেন, যার মানে হলো নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে গ্রহণ করা। যদি মন খারাপ লাগে, সেটিকে স্বীকার করুন। কিন্তু নিজেকে দোষারোপ করবেন না।

মনে রাখা জরুরি, ভালোবাসার দিন মানে শুধু রোমান্টিক সম্পর্ক নয়। বন্ধুত্ব, পরিবার, এমনকি নিজের প্রতি ভালোবাসাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বসন্ত যেমন নতুন সূচনার প্রতীক, তেমনি সিঙ্গল জীবনের সময়টাও হতে পারে আত্ম-আবিষ্কারের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। মানসিক চাপ এলে তাকে চেনা ও সামলানোই প্রথম পদক্ষেপ-কারণ সম্পর্কের স্ট্যাটাস নয়, মানসিক সুস্থতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয়।

সূত্র: টাইমস ম্যাগাজিন, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
বসন্ত মানে হলুদ রং কেন? 
অফিস করেও বিশেষ দিনটি সঙ্গীকে নিয়ে উদযাপন করতে পারেন 

এসএকেওয়াই/

আরও পড়ুন