রোজায় মানসিক প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে
ছবি: এআই
কিছুদিন পর শুরু হচ্ছে রমজান। রমজান বা রোজা কেবল খাদ্য ও পানির পরিহার নয়; এটি মানসিক দৃঢ়তা, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা। যে ব্যক্তি শারীরিকভাবে রোজা রাখতে প্রস্তুত, তার জন্য মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই প্রথম দিনেই উত্তেজনা বা ক্ষুধার কারণে চাপ অনুভব করেন। এই চাপ কমাতে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
আসুন জেনে নেওয়া যাক রোজায় মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে যা করতে পারেন-
লক্ষ্য স্পষ্ট করা
প্রথমেই নিজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্পষ্ট করুন। রোজার আসল লক্ষ্য হলো ধৈর্য্য, সহনশীলতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অর্জন করা। যখন হৃদয়ে এই লক্ষ্য দৃঢ়ভাবে থাকে, তখন ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা দৈনন্দিন ব্যস্ততায় মনোযোগ হারানোর সম্ভাবনা কমে যায়। নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার রাখলে শরীর ও মন একসঙ্গে প্রস্তুত থাকে এবং রোজা আরও অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রুটিনে পরিবর্তন করে
রোজার সময় সঠিক নিয়ম মেনে একটি পরিকল্পিত রুটিন অনুযায়ী জীবনযাপন করলে পুরো মাসটাই অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়। প্রতিদিনের রুটিনে পরিবর্তন আনার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ধীরে ধীরে এগোনো। হঠাৎ করে ঘুমের সময় বা খাবারের সময় বদলে দিলে শরীর অস্বস্তি বোধ করে এবং মনেও চাপ তৈরি হয়।
রমজান শুরুর আগেই ছোট ছোট অভ্যাস বদলানো শুরু করা উচিত-যেমন ধীরে ধীরে একটু আগে ঘুমানো, ভোরে ওঠার অভ্যাস করা, রাতের খাবারের সময় এগিয়ে আনা বা চা-কফির পরিমাণ কমানো। এতে শরীর নতুন সময়সূচির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নিতে পারে এবং মনও নতুন রুটিন গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে।
পরিকল্পনা করে
মানসিক প্রস্তুতির আরেকটি বড় অংশ হলো আগেভাগে পরিকল্পনা করা। রমজান শুরুর আগে সেহরি ও ইফতারের সময় ঠিক করে নেওয়া ভালো। কখন ঘুমাবেন, কখন উঠবেন, কখন কাজ বা পড়াশোনা করবেন-এসব নিয়ে একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত রুটিন বানিয়ে ফেলুন। এতে শরীর ও মন ধীরে ধীরে নতুন সময়সূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিতে পারে।পরিকল্পনার কারণে রমজানের প্রথম কয়েকদিন যে অস্থিরতা, ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব আসে, তা অনেকটাই কমে যবে।
ক্যাফেইন কমিয়ে আনা
ক্যাফেইন কমিয়ে আনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। যারা নিয়মিত চা বা কফি খান, তারা হঠাৎ করে বন্ধ করলে মাথাব্যথা বা বিরক্তি অনুভব করতে পারেন। তাই আগে থেকেই ধীরে ধীরে পরিমাণ কমিয়ে আনলে রমজানের শুরুতে অস্বস্তি কম হয়।
আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা
রোজায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধা ও ক্লান্তির কারণে অনেক সময় রাগ বা অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মনে রাখতে হবে, রোজা কেবল খাবার থেকে বিরত থাকা নয়, খারাপ আচরণ থেকেও বিরত থাকা। কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া, অল্প সময় চুপ থাকা বা অযথা তর্ক এড়িয়ে চলা মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। হঠাৎ রাগ, অস্থিরতা বা হতাশা অনুভব হলে ধীরে শ্বাস নেওয়া, ধ্যান করা বা ছোট বিশ্রামের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখা সম্ভব।
ইতিবাচক চিন্তা করা
মনকে শক্ত রাখার জন্য ইতিবাচক চিন্তা করা খুব জরুরি। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা অনেক সময় মনকে খারাপ করে দিতে পারে। ধ্যান, প্রার্থনা বা ইতিবাচক চিন্তা মনের শান্তি এনে দেয়। নিজের ছোট সাফল্য-যেমন প্রথম তিন দিন রোজা ঠিকভাবে পালন করে নিজের আত্মপ্রশংসা করলেও মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা বা কম ব্যবহার করাই ভালো। এটি সামাজিক চাপ এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে এবং নিজেকে ইতিবাচক পরিবেশে রাখার মাধ্যমে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকে পরিবারের সঙ্গে বা বন্ধুদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করুন এবং ইফতার ও সেহরির আয়োজনে সাহায্য করে মনকে প্রশান্ত রাখুন।
মানসিক প্রস্তুতি মানে কেবল শারীরিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রোজা নয়,এটি একটি অভ্যন্তরীণ যাত্রা। ধৈর্য্য, সহনশীলতা, ইতিবাচক মনোভাব এবং পরিকল্পিত রুটিন একসঙ্গে রোজাকে সফল এবং শান্তিপূর্ণ করে। তাই রোজা ঠিকভাবে পালন করতে হলে শারীরিক পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও অপরিহার্য।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, এনডিটিভি ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:
রোজার আগে ইফতারের সঠিক প্রস্তুতির টিপস
রোজায় নতুন মায়েদের যত্ন নেবেন যেভাবে
এসএকেওয়াই/