ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

বার্ধক্যের রোগ অ্যালঝাইমার্স ও পার্কিনসন্স নিয়ে কেন জানা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৬

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। তবে কিছু পরিবর্তন এমনও আছে, যা শুধু বয়সের স্বাভাবিক প্রভাব নয় - বরং গুরুতর স্নায়বিক রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

অ্যালঝাইমার্স ও পার্কিনসন্স এমনই দুটি প্রগ্রেসিভ বা ক্রমশ বাড়তে থাকা রোগ, যা সরাসরি মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আজ থেকে শুরু মস্তিষ্ক সচেতনতা সপ্তাহ। এই সপ্তাহের (৯ থেকে ১৬ মার্চ) অন্যতম লক্ষ্য হলো এসব রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। কারণ প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হলেও এগুলো উপেক্ষা করলে রোগ দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

১. অ্যালঝাইমার্স: ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় স্মৃতি

অ্যালঝাইমার্স হলো ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ রূপ। এই রোগে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মস্তিষ্কের আকারও ছোট হতে থাকে। ফলে স্মৃতি, চিন্তাশক্তি এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়।

রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনা ভুলে যাওয়া, পরিচিত জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা, কথা বলার সময় সঠিক শব্দ মনে না পড়া এবং হঠাৎ আচরণ বা মেজাজের পরিবর্তন। অনেক সময় এসব লক্ষণকে সাধারণ বার্ধক্যজনিত ভুলোমনা ভাব বলে মনে করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো আসলে রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

বার্ধক্যের রোগ অ্যালঝাইমার্স ও পার্কিনসন্স নিয়ে কেন জানা জরুরি

সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে ওষুধ, থেরাপি এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে রোগীর দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

২. পার্কিনসন্স: শরীরের নড়াচড়ায় নিয়ন্ত্রণ কমে যায়

পার্কিনসন্স মূলত শরীরের নড়াচড়াকে প্রভাবিত করে এমন একটি স্নায়ুরোগ। মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ কমে গেলে এই রোগ দেখা দেয়।

এর প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হাত বা পা কাঁপা, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো এবং কথা বলার স্বর ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে আসা। অনেক ক্ষেত্রে রোগের সঙ্গে মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতাও দেখা দিতে পারে।

যদিও এই রোগ পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়, তবে সঠিক ওষুধ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে জীবনযাপন করলে রোগীরা দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে পারেন।

৩. প্রতিরোধে জীবনযাপনের ভূমিকা

কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্কের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বই পড়া, পাজল সমাধান করা বা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে।

বার্ধক্যের রোগ অ্যালঝাইমার্স ও পার্কিনসন্স নিয়ে কেন জানা জরুরি

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি, হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় থাকে।

এ ছাড়া মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে। একাকীত্ব অনেক সময় স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি। শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, অলিভ অয়েল এবং ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ মাছ নিয়ে গঠিত ‘মাইন্ড ডায়েট’ বা ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

৪. সচেতনতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

অ্যালঝাইমার্স বা পার্কিনসন্সে আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরিবারের সদস্যদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারেন। কিন্তু রোগ সম্পর্কে জানা থাকলে পরিবার ও আশপাশের মানুষ তাদের প্রতি আরও সহমর্মী ও ধৈর্যশীল হতে পারেন।

বার্ধক্যের রোগ অ্যালঝাইমার্স ও পার্কিনসন্স নিয়ে কেন জানা জরুরি

এ ছাড়া এসব রোগ দীর্ঘমেয়াদি। তাই আগে থেকেই রোগ সম্পর্কে ধারণা থাকলে চিকিৎসা, সেবাযত্ন এবং আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হয়।

তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি বা চলাফেরায় কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই এসব স্নায়বিক রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আলঝাইমার্স অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং, মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার সোসাইটি

এএমপি/এএসএম

আরও পড়ুন