লিফট থেকে নামার পর মাথা ঘোরে কেন
আমাদের শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কানের ভেতরের অংশ বা ভেস্টিবুলার সিস্টেম। ছবি/এআই দিয়ে বানানো
লিফটে ওঠানামা করার পর অনেকেরই হালকা মাথা ঘোরা, শরীর দুলে ওঠা বা ভারসাম্য হারানোর মতো অনুভূতি হয়। বিষয়টি সাধারণ হলেও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, এটা কি কোনো অসুখের লক্ষণ, নাকি শারীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক এবং শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।
১. ভেতরের কানের ভূমিকা
আমাদের শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কানের ভেতরের অংশ বা ভেস্টিবুলার সিস্টেম। এই অংশটি শরীরের অবস্থান, গতি ও দিক পরিবর্তনের তথ্য মস্তিষ্কে পাঠায়।
লিফট যখন দ্রুত ওপরে ওঠে বা নিচে নামে, তখন শরীর হঠাৎ গতির পরিবর্তন অনুভব করে। কিন্তু লিফট থেমে যাওয়ার পরও ভেতরের কান কিছু সময় সেই গতির অনুভূতি ধরে রাখে। ফলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, আর তখনই মাথা ঘোরার অনুভূতি তৈরি হয়।
২. চোখ ও শরীরের অসামঞ্জস্য
মাথা ঘোরার আরেকটি কারণ হলো চোখ ও ভেস্টিবুলার সিস্টেমের মধ্যে সাময়িক অসামঞ্জস্য। লিফটের ভেতরে আমরা সাধারণত স্থির জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকি, ফলে চোখ খুব বেশি গতি বুঝতে পারে না। কিন্তু শরীর ভেতরে ভেতরে সেই গতির পরিবর্তন অনুভব করে।
এই দুই তথ্যের অমিল মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে, যার ফলে নামার পর কিছুক্ষণ অস্বস্তি বা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে।
৩. রক্তচাপের সামান্য পরিবর্তন
দ্রুত ওঠানামার সময় শরীরের রক্তচাপেও সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই নিম্ন রক্তচাপ, পানিশূন্যতা বা দুর্বলতায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে লিফট থেকে নামার পর মাথা হালকা লাগা বা ঝিমঝিম ভাব বেশি হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এই অনুভূতি চলে যায়। তবে যদি বারবার তীব্র মাথা ঘোরা, বমিভাব, কানে শব্দ বা ভারসাম্য হারানোর সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এটি ভেস্টিবুলার সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
কী করলে স্বস্তি পাবেন
লিফট থেকে নামার সময় ধীরে হাঁটা, কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে থাকা এবং হঠাৎ দৌড়ানো বা ঘুরে দাঁড়ানো এড়িয়ে চললে এই অস্বস্তি কমানো যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করাও সহায়ক।
লিফট থেকে নেমে মাথা ঘোরা বেশিরভাগ সময়ই স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। এটি শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জটিল ব্যবস্থার একটি ছোট বিভ্রান্তি মাত্র। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ডেফনেস অ্যান্ড আদার কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডারস
এএমপি/জেআইএম