ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

সোনা কেনার আগে যে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছে মানুষ

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

এক সময় সোনা কেনা ছিল আনন্দের উপলক্ষ। বিয়ে, সন্তান জন্ম, ঈদ-পূজা কিংবা নতুন কিছু শুরু সবখানেই সোনার ঝিলিক যেন নিশ্চিত সুখের প্রতীক। কিন্তু সময় বদলেছে। বাজারে সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে মানুষের মনও। আজকাল গয়নার দোকানে ঢোকার আগেই মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একগুচ্ছ প্রশ্ন কিনব তো? এখনই কিনব, না অপেক্ষা করব? আদৌ দরকার আছে তো?

সোনা কেনার আগে যে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছে মানুষ

এখন কিনলে পরে আফসোস করব না তো?

এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। প্রতিদিন খবরের শিরোনামে সোনার দাম বাড়ার আপডেট দেখে মানুষ দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছে। আজ কিনলে কাল যদি দাম কমে যায়, তাহলে কি লোকসান হবে? আবার না কিনে অপেক্ষা করলে দাম আরও বেড়ে যাবে কি না, সেটাও অজানা। ফলে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। সোনা কেনা এখন আর শুধু আবেগের বিষয় নয়, এক ধরনের মানসিক চাপের নাম।

গয়না কি এখন বিলাসিতা হয়ে যাচ্ছে?

এক সময় যে গয়না ছিল সামাজিক রীতি আর পারিবারিক প্রয়োজন, আজ সেটাই অনেকের চোখে বিলাসিতা। মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রশ্ন উঠছে এই টাকায় কি সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা ভবিষ্যৎ সঞ্চয় বেশি জরুরি নয়? আগের মতো ভারী হার, চুড়ি বা সেট কেনার প্রবণতা কমছে। মানুষ ভাবছে, সৌন্দর্য কি শুধুই সোনায়?

সোনা কেনার আগে যে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছে মানুষ

বিয়ে মানেই কি অনেক সোনা?

এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরছে তরুণ দম্পতিদের মাথায়। আগে বিয়ে মানেই ছিল আলাদা করে সোনার প্রস্তুতি। এখন অনেকেই বলছেন বিয়ের দিনে কয়েকটি হালকা গয়না থাকলেই কি যথেষ্ট নয়? অনেকে আবার ভাবছেন, অনুষ্ঠান শেষ হলে গয়না আলমারিতে পড়ে থাকবে তার চেয়ে কি জীবনের অন্য প্রয়োজনে টাকা খরচ করাই ভালো নয়?

আরও পড়ুন: 

সমাজ কী বলবে?

সোনা কেনার সিদ্ধান্তে এই প্রশ্নটি নীরবে কিন্তু গভীরভাবে কাজ করে। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সামাজিক তুলনা সব মিলিয়ে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। কম গয়না পরলে প্রশ্ন আসে, কেন এত কম? দাম বাড়লেও এই সামাজিক প্রত্যাশা পুরোপুরি কমেনি। তাই মানুষ দ্বিধায় পড়ে যায় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চলবে, নাকি সমাজের চোখে ‘কম’ হওয়ার ভয় কাটাতে বাড়তি চাপ নেবে?

সোনা কি এখন বিনিয়োগ, না শুধু গয়না?

এই প্রশ্নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছে। আগের প্রজন্ম যেখানে সোনাকে শুধু অলংকার হিসেবে দেখেছে, বর্তমান প্রজন্ম সেখানে হিসাব কষছে। গয়না হিসেবে কিনলে মজুরি, ভাঙালে কাটছাঁট সব মিলিয়ে লাভ কতটা? নাকি সোনা কিনে রেখে দেওয়া উচিত ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হিসেবে? এই ভাবনাই প্রমাণ করে, মানুষ এখন আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সোনা কেনার আগে যে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছে মানুষ

অন্য বিকল্প কি আছে?

দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিকল্প খুঁজছে। হালকা গয়না, পুরোনো গয়না রি-ডিজাইন, এমনকি বিশেষ দিনের জন্য ভাড়া গয়না এসব ভাবনাও আলোচনায় আসছে। অনেকে আবার ফ্যাশন জুয়েলারি বা মেটাল অ্যাকসেসরিজে ঝুঁকছেন। প্রশ্নটা এখন এমন সব অনুষ্ঠানে কি আসল সোনাই লাগবে?

পরিবারের ভবিষ্যৎ, না আজকের সাজ?

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটা খুব বাস্তব। নিজের জন্য গয়না কিনব, নাকি সেই টাকাটা পরিবারের নিরাপত্তায় রাখব? মায়ের আলমারিতে রাখা সোনার পেছনে যেমন আবেগ আছে, তেমনি আছে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। কিন্তু দাম বাড়ায় সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতেই এখন দ্বিধা তৈরি হচ্ছে; আজ কিনব, না অপেক্ষা করব আরও ভালো সময়ের জন্য?

সোনা কেনার আগে যে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছে মানুষ

সোনা ছাড়াও কি সম্মান কমে যায়?

সামাজিক বাস্তবতায় এখনো অনেক জায়গায় সোনাকে সম্মানের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রশ্ন উঠছে—সম্মান কি সত্যিই গয়নার ওজনে মাপা উচিত? নাকি দায়িত্বশীল জীবনযাপন, সচেতন সিদ্ধান্ত আর মানসিক শান্তিই আসল সম্মান? এই প্রশ্নটাই হয়তো বদলে দিচ্ছে জীবনধারার দৃষ্টিভঙ্গি।

বদলাচ্ছে সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে জীবনধারা

সোনার দাম বাড়ার খবর শুধু বাজারে প্রভাব ফেলছে না, প্রভাব ফেলছে মানুষের মানসিকতায়ও। মানুষ এখন প্রশ্ন করছে, ভাবছে, হিসাব করছে। এই প্রশ্নগুলোই প্রমাণ করে আমরা ধীরে ধীরে আরও সচেতন, আরও বাস্তববাদী হয়ে উঠছি। হয়তো সোনার ঝিলিক কমছে, কিন্তু বাড়ছে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তের আলো। আর সেটাই আজকের জীবনের সবচেয়ে বড় অলংকার।

জেএস/

আরও পড়ুন