অসুস্থ হলে কখন রোজা ভাঙা জরুরি
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
রমজান মাসে রোজা পালন ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, লিভার বা অন্যান্য পেটের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ অবহেলা করলে তা মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তাই প্রশ্ন উঠছে কোন পরিস্থিতিতে রোজা ভেঙে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?
ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের বলেন, রোজা রেখে অসুস্থতা সহ্য করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কিছু সতর্ক সংকেত আছে, যেগুলো দেখা দিলে দেরি না করে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
ছবি: ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের
তীব্র ও সহ্যহীন পেটব্যথা
সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা এক রকম, কিন্তু যদি হঠাৎ তীব্র, ছুরিকাঘাতের মতো পেটব্যথা শুরু হয়, তা হতে পারে আলসার জটিলতা বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের লক্ষণ। ডা. যোবায়েরের ভাষায়, তীব্র ও অস্বাভাবিক ব্যথা কখনোই অবহেলা করা যাবে না।
রক্তমিশ্রিত বমি বা কালো পায়খানা
এগুলো গুরুতর লক্ষণ। রক্তমিশ্রিত বমি, পায়খানা হতে পারে পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণের ইঙ্গিত। এমন পরিস্থিতিতে রোজা অব্যাহত রাখা বিপজ্জনক হতে পারে।
বারবার বমি ও পানিশূন্যতা
রোজার সময় বারবার বমি হলে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডা. যোবায়ের বলেন, ডিহাইড্রেশন হলে রোজা ভেঙে তরল গ্রহণ ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
তীব্র বুকজ্বালা ও গিলতে কষ্ট
হালকা বুকজ্বালা সাধারণ অ্যাসিডিটি হতে পারে। তবে যদি তা অসহনীয় হয়ে যায় বা খাবার গিলতে কষ্ট হয়, তাহলে তা আলসার বা খাদ্যনালীর জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
মাথা ঘোরা ও অস্বাভাবিক দুর্বলতা
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঝিমুনি বা মাথা ঘোরা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:
জ্বর ও তীব্র বমিভাব
পেটের সংক্রমণ বা লিভারের সমস্যার ক্ষেত্রে জ্বর ও বমিভাব দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় রোজা চালিয়ে যাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
- আলসার রোগী
- লিভার রোগী
- দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক রোগী
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি
ডা. যোবায়ের বলেন, এ ধরনের রোগীরা রোজা রাখতে চাইলে অবশ্যই আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
রোজা আধ্যাত্মিক সাধনার অংশ, কিন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তা পালন করা উচিত নয়। গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে রোজা ভেঙে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।
জেএস/