শপিং ব্যাগেই লুকানো ফ্যাশনের নতুন ট্রেন্ড
ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাশন দুনিয়ায় পরিবর্তন এখন আর শুধু পোশাকের কাট, রঙ বা ডিজাইনে সীমাবদ্ধ নেই, এই বদলের ছাপ পড়ছে শপিং ব্যাগেও। একসময় কেনাকাটার পর পাওয়া ব্যাগ ছিল শুধুই প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ, কিন্তু এখন সেটিই হয়ে উঠছে স্টাইল, সচেতনতা ও ব্র্যান্ড পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
কোথাও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্যাগের জন্য নেওয়া হচ্ছে আলাদা মূল্য, আবার কোথাও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো বিনামূল্যে দিচ্ছে নিজেদের স্বাক্ষরধর্মী ব্যাগ। ফলে শপিং ব্যাগ এখন শুধু পণ্য বহনের মাধ্যম নয়, এটি ফ্যাশন সংস্কৃতির এক নতুন ট্রেন্ডের নীরব বাহক।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সব ব্র্যান্ড আর আগের মতো বিনামূল্যে ব্যাগ দিচ্ছে না। কেউ নিচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য, আবার কেউ এখনো দিচ্ছে ফ্রি। এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও উদ্দেশ্য।
যে ব্র্যান্ডগুলো শপিং ব্যাগের জন্য মূল্য নেয়
বিশ্বের বেশ কিছু জনপ্রিয় রিটেইল ফ্যাশন ব্র্যান্ড এখন পরিবেশবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে শপিং ব্যাগের জন্য আলাদা দাম নিচ্ছে। বিশেষ করে কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই নীতি বেশি দেখা যায়। সাধারণত এসব ব্যাগের মূল্য ০.১০ থেকে ১ ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পড়ে।
কিছু ব্র্যান্ড আবার পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ বিক্রির দিকে জোর দিচ্ছে। এসব ব্যাগের দাম ১ থেকে ৩ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের একবার ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ কম ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে।
যে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো এখনো ফ্রি ব্যাগ দেয়
অন্যদিকে, বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। এসব ব্র্যান্ডে পণ্য কেনার সঙ্গে সাধারণত খুব যত্নসহকারে তৈরি একটি শক্ত কাগজের শপিং ব্যাগ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। অনেক সময় এর সঙ্গে থাকে রিবন, টিস্যু পেপার কিংবা আলাদা ডাস্ট ব্যাগও। এই ব্যাগগুলো এতটাই আকর্ষণীয় ও মানসম্পন্ন হয় যে অনেক ক্রেতা এগুলো স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করেন বা পুনরায় ব্যবহার করেন। ফলে ব্যাগটি নিজেই হয়ে ওঠে ব্র্যান্ডের অভিজ্ঞতার অংশ এবং এক ধরনের ‘কালেকটিবল’।
কেন কিছু ব্র্যান্ড ফ্রি ব্যাগ দেওয়া বন্ধ করছে
পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ: প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ শপিং ব্যাগ ব্যবহৃত হয়, যার বড় অংশই একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। তাই সামান্য মূল্য নির্ধারণ করে ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের সচেতন করতে চাইছে।
টেকসই ফ্যাশনের প্রবণতা: বর্তমানে ফ্যাশন শিল্পে ‘সাস্টেইনেবিলিটি’ একটি বড় আলোচনার বিষয়। উৎপাদন থেকে প্যাকেজিং সব ক্ষেত্রেই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণের চেষ্টা চলছে। শপিং ব্যাগের জন্য মূল্য নেওয়াও এই নীতিরই অংশ।
উৎপাদন খরচ কমানো: শপিং ব্যাগ তৈরি করতেও প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য খরচ হয়। আলাদা মূল্য নির্ধারণ করে তারা এই ব্যয়ের চাপ কিছুটা সামাল দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
- ভিড়ের মাঝে ফুটপাতেই উৎসবের রং
- শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মানুষের ঢল
- বসুন্ধরা সিটিতে ঈদের রঙিন প্রস্তুতি
ব্যাগও হয়ে উঠছে ব্র্যান্ডের পরিচয়
আজকের ফ্যাশন দুনিয়ায় শপিং ব্যাগ আর শুধু বহনের মাধ্যম নয়, এটি ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রাস্তায় কেউ যখন পরিচিত কোনো ব্র্যান্ডের ব্যাগ হাতে বহন করেন, তখন সেটি অদৃশ্য বিজ্ঞাপনের মতো কাজ করে।
ফলে একদিকে কিছু ব্র্যান্ড পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ব্যাগের জন্য মূল্য নিচ্ছে, অন্যদিকে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো ফ্রি ব্যাগ দিয়ে তাদের ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই দ্বৈত প্রবণতার মধ্য দিয়েই বোঝা যায় শপিং ব্যাগ এখন স্টাইল, সচেতনতা এবং ব্র্যান্ড সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: নিউজ এইটিন, ডেইলি সান
জেএস/