টেম্পু পাশা : নাইট শিফট- পর্ব ০২

ড. রাজুব ভৌমিক প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ২৩ জুন ২০১৯
টেম্পু পাশা : নাইট শিফট- পর্ব ০২

মাদকসেনারা মাটির উপর একের পর এক শুধু গর্তই করে যাচ্ছে। কিন্তু কেন জানি আজ ওদের মেজাজ ভীষণ খিটখিটে। হঠাৎ করে কী নিয়ে এরা সবাই মিলে প্রচণ্ড গলায় তর্ক-বিতর্ক করছে। যেহেতু স্প্যানিশ ভাষায় এরা তর্ক করছে। তাই পাশা কিছু বুঝতে না পেরে ফ্যালফ্যাল করে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।

এক সফরসঙ্গী পাশাকে বলল, ‘এ ভাই, আপনি কিছু বুঝছেন ওরা কী বলছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাই, আমার বাড়ি কুমিল্লায়। আমেরিকা আসবো বলে জায়গা-জমি সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন দেখি আমার আমেরিকা যাবার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে চলছে। বাড়িতে আমার সবাই আছে। এখানে এরা মেরে ফেললে পরিবারের কেউ জানবে না যে আমার কী হয়েছে? ওরা আমার লাশটা পর্যন্ত পাবে না।’ এই বলে ভদ্রলোকটি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল।

সফরসঙ্গীর কথা শুনে পাশার মন আরও খারাপ হয়ে গেল। ভদ্রলোকটিকে কী বলে সান্ত্বনা দিবে পাশা, সেটা বুঝতে পারছে না। পাশা বলেন, ‘ভাই, আল্লার উপরে ভরসা করেন। এদ্দুর যেহেতু আল্লায় আমাদের নিয়ে আইসে, তয় আঁর মনে অয় তিনি আঙ্গো নিরাশ কইরতো নয়।’

পাশা এ সবকিছু ভদ্রলোকটিকে সান্ত্বনার জন্য বলছে। কিন্তু সে নিজেও ভয়ে কাঁপছে।

চারিদিকে কেমন শান্ত হাওয়া বইছে। একটু গরম লাগলেও সূর্যের তীক্ষ্ণতা এখানে নেই। গাছের ছায়ার তলে তিন জন মাদকসেনা ছাড়া বাকি সবাই দাঁড়িয়ে আছে। পাশার সাথে আছে এগারো জন সফরসঙ্গী আর পাঁচ জন মাদকসেনা। সবার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ লেগে আছে।

বিকেল তখন ছয়টা বাজে। এখনো সন্ধ্যা হয়নি। গ্রীষ্মে এখানে সন্ধ্যা হয় একটু দেরিতে। অনেক সময় রাত দশটা বাজেও দিনের আলো এখানে থাকে। হঠাৎ করে এক মাদকসেনা চিৎকার করে কী জানি বলছে। অন্য মাদকসেনারা তার দিকে ধেয়ে যায়। কী জানি দেখে সবার মুখে আনন্দ প্রকাশ হচ্ছে। পাশা ভয়ে দুই-এক পা এদিক-ওদিক করে তা দেখার চেষ্টা করে। পরে সে দেখতে পায়, মাটির নিচে বিশাল এক সুড়ঙ্গ এবং এক মাদকসেনা সুড়ঙ্গের ঢাকনা ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

একজন মাদকসেনার হাতে একে-৪৭ অস্ত্র উঁচিয়ে সবাইকে ইশারা করে সুড়ঙ্গের দিকে আসার জন্য। প্রথমে কেউ আসতে চায়নি। পাশা ও তার সফরসঙ্গীরা একে অন্যের দিকে চেয়ে আছে। কী করবে তারা বুঝতে পারছে না। এতে মাদকসেনাদের মেজাজ গরম হয়ে যায়। তিন-চার জন মাদকসেনা তেড়ে এসে সবার হাত ধরে সুড়ঙ্গের দিকে নিয়ে যায়। সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রথমে দুই মাদকসেনা প্রবেশ করে। এরপর একে একে সবাই সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে। সুড়ঙ্গের ভেতর কোন আলো নেই বললেই চলে। এ যেন অমাবস্যার অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মাদকসেনারা তাদের হাতে টর্চলাইট নিল। টর্চলাইটের আলো দিয়ে সবাই ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করল।

সুড়ঙ্গের ভেতর সরু রাস্তায় ছোট-বড় পাথরখণ্ডে ভরা। পাশা এদিক-ওদিক তাকিয়ে সব দেখার চেষ্টা করছে। হঠাৎ তার মনে হলো বন্ধু আরিফের কথা। আরিফ তাকে বলেছে, আমেরিকা আর মেক্সিকো সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারকারীদের তৈরি করা বহু সুড়ঙ্গ আছে। সুড়ঙ্গগুলো দিয়ে আমেরিকাতে মাদক পাচারকারীরা নিয়মিত মাদক ও নারী পাচার করে। কিন্তু সে জানত না যে, একই পথে তাকেও নেওয়া হবে।

কিছুদূর হাঁটার পর হঠাৎ করে তীব্র বাজে গন্ধ তাদের দিকে আসতে থাকে। সবাই মুখে হাত দিল। এরপর সামনের দিকে এগোতে লাগল। কিছুক্ষণ হাঁটার পর পাশা দেখতে পায় সুড়ঙ্গের মধ্যখানে পড়ে আছে গলিত বহু লাশ। প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশের মত লাশ হবে। এত লাশ একসাথে দেখে পাশা ভয় পেয়ে গেল। এত লাশ সে জীবনেও দেখেনি। লাশের মধ্যে বহু নারী ও শিশু আছে। পড়ে আছে শিশুদের বহু খেলনা।

পাশা তার এক সফরসঙ্গীকে জিজ্ঞেস করে, ‘ভাই, এরা ক্যামনে মারা গেছে?’ সফরসঙ্গীটি পাশার দিকে বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে কী যেন বলছে। পাশা তার ভাষা বুঝতে পারছে না। সে ভাবল, ভদ্রলোক বুঝি অন্য কোন দেশের হবে। সুড়ঙ্গের দেয়ালে রক্তে যেন কী লেখা। একটু কাছে গিয়ে পাশা দেয়ালের উপর দুইটি শব্দ পড়তে পারল। দেয়ালে লেখা আছে ‘স্টপ’ এবং ‘নো’। পাশার ভয়ে বুক থরথর করে কাঁপতে লাগল। মনে মনে সে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে লাগল। প্রায় তিন ঘণ্টা হয়ে গেল। কিন্তু সুড়ঙ্গের পথ যেন শেষ হচ্ছে না। পাশার হাত-পা যেন আর চলে না। মাদকসেনাদেরও দেখে ক্লান্ত মনে হচ্ছে। সবাই সুড়ঙ্গের ভেতর বসে পড়ল। পাশাও বসে পড়ল।

পনেরো মিনিট বসার পরে হঠাৎ তার চোখে আরেকটি লাশ পড়ল। এবার সে ভাবল, সবাই যেহেতু বসে একটু ঝিরিয়ে নিচ্ছে সে এই ফাঁকে দেখে নেবে মানুষটি কিভাবে মারা গেল। পাশা উঠে সুড়ঙ্গের সামনের দিকে হাঁটা শুরু করল। মাদকসেনারা সব দেখছে। কিন্তু কেন জানি সবাই চুপচাপ। হঠাৎ করে সুড়ঙ্গের পেছন থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। পাশা দূর থেকে দেখে মেক্সিকান পুলিশ তাদের দিকে তেড়ে আসছে। পাশা কোন কিছু চিন্তা না করে দ্রুত দৌড়াতে থাকে। পেছনে অনেক গোলাগুলির শব্দ শোনে।

দৌড়াতে দৌড়াতে সে সুড়ঙ্গের অপর প্রান্তে পৌঁছে গেল। পাশা এবার একটু থামল। বড্ড তেষ্টা আর ক্ষুধার জ্বালায় যেন সে আর পারছে না। পেছনে একটু তাকাল। কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। সামনে এক বিশাল মরুভূমি। দূরে এক সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘চিহুয়াহুয়ান ডেজার্ট, টেক্সাস, ইউএসএ’। অবশেষে স্বপ্নের দেশ আমেরিকাতে পৌঁছতে পেরে পাশার মনে একটু শান্তির হাওয়া বইল। পাশা মরুভূমিতে বসে পড়ল। মরুভূমির বালু দুই হাতে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে সে তাকাল। আর মনে মনে বলল, ‘আহা কী আনন্দ! আমার হাতে আমেরিকার মাটি। আমার জীবনের স্বপ্ন আজ সত্যি হলো।’

কিছুক্ষণ বসে সে আনন্দে হাঁটতে শুরু করল। গত কয়েকদিন সে যে না খেয়ে আছে সেটা প্রায় ভুলেই গেল। পাশা তার হাতের ঘড়ির দিকে তাকাল। এখন রাত নয়টা বাজে। বাইরে এখনো দিনের আলো। প্রায় ঘণ্টাখানেক হাঁটতে হাঁটতে তার শরীর মরুভূমিতে ধসে পড়ল। আনন্দে পাশা ক্ষুধার কথা ভুলে গেলেও তার শরীর সেটা ভুলে যায়নি। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে পাশার অনাহারে-অর্ধাহারে কেটেছে। গত দুই দিন তো একেবারে কিছু খায়নি। দুই দিন আগে মাদকসেনারা তাকে একটি রুটি খেতে দিল। সে রুটিটি বাদ দিলে গত পাঁচ দিনে সে অনাহারেই ছিল। উপরন্তু পাশাকে আজ প্রায় সারাদিন বন-জঙ্গল ও সুড়ঙ্গ দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। মাদকসেনারা পাশাকে পানি পর্যন্ত পান করতে দেয়নি। পাশার দেহ নিস্তেজ হয়ে মরুভূমির উপর পড়ে আছে।

রাত তিনটা। বালুতে পাশার প্রায় সারা শরীর ঢাকা। হঠাৎ করে পাশা জেগে উঠল। শরীর অনেক দুর্বল। দাঁড়াবার সামর্থটুকু যেন তার নেই। খুব কষ্টে সে চোখ খুলল। রাতের গভীরে মেঘেতে চাঁদের লুকোচুরি। পাশা উঠে কোনমতে বসল। চিহুয়াহুয়ান মরুভূমিকে দেখতে নতুন এক অজানা গ্রহ মনে হচ্ছে। চারিদিকে মানুষ তো দূরের কথা একটি প্রাণিও নেই। অন্যদিকে পাশা ক্ষুধার জ্বালায় চারিদিকে তাকাচ্ছে। যদি কিছু পাওয়া যায়। পাশা উঠে দাঁড়াল। অদূরে বালুর উপরে যেন কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। পাশা অনেক কষ্টে হাঁটা শুরু করল। প্রায় আধাঘণ্টা হেঁটে দেখল একটি জুতা পড়ে আছে। ক্ষুধার জ্বালায় পাশা জুতাটি খেতে শুরু করল। অনেক চেষ্টা করেও পাশা জুতাটি ঠিকমত খেতে পারেনি। শুধু জুতার সামান্য অংশ সে খেতে সক্ষম হয়েছে। এরপর পাশা চিহুয়াহুয়ান মরুভূমির উপর সোজা হাঁটতে শুরু করল। কোথায় যাচ্ছে সে নিজেও জানে না। শুধু জানে সোজা হাঁটতে থাকলে সে একদিন এই দুর্গম মরুভূমিটি অতিক্রম করতে পারবে।

আকাশে সূর্য যেন উঁকি দিচ্ছে। পাশা বুঝল যে ভোর হলো। পাশা কিছুতেই থামতে নারাজ। তেষ্টায় পাশার প্রায় বুক ফেটে যাচ্ছে। কোনমতে সে হেঁটে চলছে। তার সারা শরীর বালুতে ভরা। হাঁটতে হাঁটতে মরুভূমিতে সে একটি প্লাস্টিকের থলে দেখতে পায়। পাশা প্লাস্টিকের থলেটি হাতে নেয়। প্লাস্টিকের থলেতে সে প্রস্রাব করে। তার মাথায় আর কোন চিন্তা-ভাবনা নেই। ভুলেছে সে তার অতীত। ভুলেছে তার ভবিষ্যত। এখন শুধু একটাই ভাবনা। তাকে বাঁচতে হবে। থলেতে প্রস্রাব করা শেষ হলে কোনকিছু চিন্তা না করে প্রস্রাব পান করতে থাকে। অবশেষে তার তেষ্টা দূর হলো।

নতুন উদ্যমে সে আবার হাঁটতে শুরু করে। সারাদিন হাঁটল। কতদূর হাঁটল সে নিজেও জানে না। সূর্যাস্ত ঘনিয়ে আসল। পাশা অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। সে মরুভূমির উপরে শুয়ে পড়ল। শরীরের ভার যেন তার আর সয় না।

পরের দিন দুপুর একটায় সে জেগে ওঠে। উঠে চারিদিকে তাকায় পাশা। নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না। প্রায় পনেরো ঘণ্টা সে ঘুমিয়েছে। মনে মনে নিজেকে সে অনেক গালি দিল। পাশা কষ্ট করে উঠে দাঁড়াল। ক্ষুধায় তার সারা শরীর যেন জ্বলে যাচ্ছে। চারিদিকে বালু বিনে যে আর কিছুই নেই। কিছু করার নাই ভেবে পাশা হাঁটতে শুরু করল। দুর্বল শরীর নিয়ে এক-পা এক-পা করে এগোতে লাগল।

বিকেল প্রায় চারটা বাজে। আকাশে সূর্যের তীক্ষ্ণ তাপ। চারিদিকে কেবল মরুভূমি আর মরুভূমি। এর যেন কোন অন্ত নেই। পাশা চারিদিকে তাকাচ্ছে। যদি কিছু খেতে পাওয়া যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটল কিন্তু মরুভূমির উপরে বালি ছাড়া আর কিছু নেই। রাত প্রায় দশটা। উপায় না দেখে পাশা খাবার জন্য একমুঠো বালু হাতে নিল। আধামুঠো বালু খাবার পর পাশার গলায় বালু আটকে গেল। কাশিতে কাশিতে যেন তার প্রাণ যায়। কিছুক্ষণ পরে সে বমি করল। বমিতে জল আর বালু ছাড়া কিছু নেই। বমির পর পাশা একটু ভালো অনুভব করল।

আবার সে হাঁটতে শুরু করল। কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর সে অজ্ঞান হয়ে মরুভূমিতে পড়ল। ভোর প্রায় সাতটা বাজে পাশার জ্ঞান ফেরে। পাশার আর দাঁড়াবার শক্তি নেই। তার শরীরটা বিশাল এক পাথরের মত মনে হচ্ছে। পাশা মনে মনে ভাবল, অবশেষে বুঝি আমি হেরে গেলাম। তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। হঠাৎ পাশা দূরে কিছু একটা দেখল। ভালো করে চোখ খুলে পাশা দেখার চেষ্টা করল। কিছুক্ষণ পর দেখে পাশার মনে হলো দূরে একজন মানুষের মত কেউ শুয়ে আছে। পাশা হামাগুড়ি দিয়ে তার দিকে চলল। কিছুক্ষণ হামাগুড়ি দেওয়ার পর পাশা আর পারছে না। চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল।

আবার কষ্ট করে হামাগুড়ি দিতে লাগল। ভাবল মানুষটি হয়তো তাকে সাহায্য করতে পারবে। আবার ভাবে মরুভূমির এই মহাসমুদ্রেই বা লোকটি কী করে? কাছে গিয়ে যা দেখল তা দেখে পাশা আরও হতাশ। একজন মহিলার মৃত লাশ পড়ে আছে। মহিলার সারা গায়ের চামড়া রৌদ্রে শুকিয়ে আছে। ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির পাশা মহিলাটির হাত ধরে টানল। মহিলার হাতটি সে খেতে চেষ্টা করল। কিন্তু খাবার মত হাতের ভেতর কোন মাংস ছিল না। একে একে মহিলাটির হাত-পা খুলে ফেলল। হাড্ডি ছাড়া তার শরীরে যেন কিছু নেই। মহিলার বুকে একটি ধারালো ছুরি লেগে আছে। বিলম্ব না করে সে ছুরি দিয়েই মহিলাটির বুক চিরে ফেলল। বুকের ভেতর থেকে পাশা কলিজা, ফুসফুস এবং লিভার টেনে আনল। কলিজা, ফুসফুস এবং লিভারও কিছুটা শুকিয়ে গেছে। এরপর গপাস গপাস করে পাশা একে একে কলিজা, ফুসফুস এবং লিভার খেয়ে নিল। এমন তৃপ্তির খাবার যেন সে জীবনে কখনো খায়নি। অনেক দিন পরে পাশা পেট পুরে খেল।

‘আহা, কী শান্তি!’ পাশা ভাবল।

খাবার শেষ হওয়ার পর তার মস্তিষ্কে আস্তে আস্তে সব স্মৃতি শক্তি ফিরে আসে। তার বাংলাদেশের সবার কথা মনে পড়ে। গত কয়েক দিনের সংগ্রামের কথা মনে করে সে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে।

মহিলাটির লাশের পাশেই তার হাতব্যাগটি পড়ে আছে। বিলম্ব না করে পাশা মহিলাটির হাতব্যাগ খুলল। হাতব্যাগে মহিলাটির পরিচয়পত্র দেখে পাশা খুব বিস্মিত হলো।

চলবে...

এসইউ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :

এই বিভাগের সর্বশেষ