প্রেস ক্লাবে ইফতার: ব্যস্ততার ফাঁক গলে এক অনানুষ্ঠানিক পুনর্মিলন
জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত অতিথিরা/ছবি: জাগো নিউজ
রমজানের দ্বিতীয় দিনের শুক্রবার। বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। রাজধানীর সাংবাদিকতার এক চেনা ঠিকানা, ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় প্রেস ক্লাব–এর চৌহদ্দি প্রবীণ ও নবীন সদস্যদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে।
এ সময় কেউ কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত, কেউ চুপচাপ বসে আবার কেউবা ঘুরে ঘুরে পুরোনো মুখগুলো দেখছেন তৃপ্ত চোখে।
বিকেল থেকেই ক্লাবে নানা বয়সী ক্লাব সদস্যরা একে একে উপস্থিত হতে থাকেন । সারাদিন রোজা রেখে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি ভর করলেও পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতের উষ্ণতায় সেই ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়ে যায়।
গত কয়েকদিনের জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততা অনেককেই ক্লাবমুখী হতে দেয়নি। রিপোর্টিং, ডেস্কের চাপ, লাইভ আপডেট—সব মিলিয়ে যেন নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়ও ছিল না কারও। সেই ব্যস্ততার পর শুক্রবারের ইফতার হয়ে উঠল এক অনানুষ্ঠানিক পুনর্মিলনের উপলক্ষ।
ক্লাবের বাইরে সামিয়ানা টাঙিয়ে সাজানো চেয়ার-টেবিলে বসে ছোট ছোট দলে গল্পে মেতে ওঠেন সাংবাদিকরা। আলোচনায় উঠে আসে নির্বাচন পরবর্তী অভিজ্ঞতা, মাঠের মজার ঘটনা, পেশার চাপ আর ব্যক্তিগত জীবনের খণ্ডচিত্র। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া এক সহকর্মীর কাঁধে হাত রেখে কেউ বললেন, “এই কয়দিন মনে হচ্ছিল ক্লাবটাই ভুলে গেছি!”
জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার দুই সদস্য—তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ।
এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন।
ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে টেবিলে শসা, খেজুর, শরবত, মাঠা, পেঁয়াজু, পোলাও, মুরগির রোস্ট ও গরুর মাংস সাজিয়ে রাখতে দেখে ঘড়িতে চোখ রাখেন অনেকে। এ সময় মাইকে মোনাজাতের আহ্বান জানানো হলে সবাই দুই হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আজানের ধ্বনি শোনা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সবাই একসঙ্গে রোজা ভাঙেন। মুহূর্তটি যেন শুধুই খাবারের নয় বরং একাত্মতারও।
অনেকের কাছে এই ইফতার ছিল ব্যস্ততার চাপ থেকে সামান্য মুক্তির নিশ্বাস। কারও কাছে বন্ধুত্বের বন্ধন ঝালাই করার সময়। আবার কারও কাছে এটি ছিল স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের মেলবন্ধন—যেখানে পেশাগত পরিচয়ের বাইরে মানুষগুলো নিজেদের মতো করে মিলিত হন।
রমজানে ইফতার প্রতিদিনই হয়। তবে কিছু কিছু ইফতার কেবল সময়সূচির অংশ থাকে না—সেগুলো হয়ে ওঠে অনুভূতির, সম্পর্কের এবং পেশাজীবনের মানবিক দিকের এক নিঃশব্দ উদ্যাপন। শুক্রবারের এই সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাব যেন ঠিক তেমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো।
এমইউ/এমএমকে