ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. গণমাধ্যম

সংবাদমাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এলো ‘রেসপন্স প্রটোকল’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানি প্রতিকার নীতিমালা ‘রেসপন্স প্রটোকল’ প্রকাশ করেছে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন বাংলাদেশ।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে এ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের সহায়তায় পরিচালিত ‘নারী সাংবাদিকদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রোটোকলটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু নীতিমালা প্রণয়ন নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যৌন নিপীড়ন এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রটোকল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জেলা পর্যায়েও উদ্যোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, এই প্রটোকল পুরো মিডিয়া ব্যবস্থার জন্য প্রযোজ্য। জেন্ডারবান্ধব গণমাধ্যমকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান রনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও মানবসম্পদ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তি জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী চাকরি হারান, আর অভিযুক্ত থেকে যান—এই সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে।

বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, দেশে আইন থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের গাইডলাইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে পরিবর্তন সম্ভব।

jagonews24

জাতিসংঘের নারী সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি সহজ ও কার্যকর দলিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এর বাস্তবায়ন জরুরি।

প্রটোকল প্রণয়নকারী সুলাইমান নিলয় বলেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই নীতিমালা নতুন বাধ্যবাধকতা তৈরি না করে দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর আল মামুন বলেন, দেশে নারী সাংবাদিকের সংখ্যা ১০ শতাংশেরও কম। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ছাড়া এ বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রটোকলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি, সচেতনতা বৃদ্ধি, শাস্তির বিধান স্পষ্টকরণ এবং কার্যকর সুরক্ষা কাঠামো গঠনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একটি সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে গড়ে ১৫ শতাংশ সংবাদকর্মী কর্মক্ষেত্রে সরাসরি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের এক যৌথ জরিপে ৩৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এতে দেখা যায়, মৌখিক হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১ শতাংশ নারী ও ৮ শতাংশ পুরুষ; অনলাইন হয়রানিতে নারী ৪৩ শতাংশ ও পুরুষ ১৪ শতাংশ; শারীরিক হয়রানিতে নারী ২১ শতাংশ ও পুরুষ ৪ শতাংশ। এছাড়া কয়েকজন নারী ও পুরুষ ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথাও উঠে আসে।

জরিপে আরও দেখা যায়, মৌখিক হয়রানির অভিযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেগুলোতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগই সতর্কবার্তায় সীমিত ছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে সংবাদমাধ্যমে এ প্রটোকল বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এসইউজে/এমকেআর