ভিডিও EN
  1. Home/
  2. গণমাধ্যম

সাইবার নিরাপত্তা আইন

মিথ্যা মামলা করলে বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান চায় বিএফইউজে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে কেউ মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে তার (বাদী) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে বিএফইউজের পক্ষে এ প্রস্তাব করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন বিষয়ে বিএফইউজের উপস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লিখিতভাবে এ প্রস্তাব করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিক সমাজের পক্ষে বিএফইউজের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পড়ে শোনান মনজুরুল আহসান বুলবুল।

আরও পড়ুন: সাইবার নিরাপত্তা আইন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কপি পেস্ট: টিআইবি

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনের কোনো ধারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সংবিধানের বিধান, তথ্য অধিকার আইন ২০১৯ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় কি না, তা আরও নিবিড়ভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মিসইউজ ও এবিউজ হয়েছে, এটা আইনমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। অনেককে শুধু হয়রানি করার জন্যই মামলা করা হয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি আইন যাতে সেই একই পথে না হাঁটে সেজন্য এ আইনে কয়েকটি ধারা বা উপধারা সংযোজন করার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: যা আছে সাইবার নিরাপত্তা আইনে

bfuj-1.jpg

বিএফইউজের তিন প্রস্তাব

>> এ আইনে কেউ মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে তার (বাদীর) বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকতে হবে।

>> খসড়া আইনে ‘জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি’ গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে একজন সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রাখার প্রস্তাব রাখছি। এতে আইনটি প্রয়োগের শুরুতেই অনেক ঝামেলা এড়ানো যাবে।

আরও পড়ুন: ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করলে মেনে নেবো না’

>> জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিলে বিএফইউজের সুপারিশ অনুযায়ী- একজন সাংবাদিক বা গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রাখার প্রস্তাব করছি।

পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বক্তব্যে বিএফইউজের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী বলেন, অনেকেই সাংবাদিক সেজে অপরাধ করে। কিন্তু প্রকৃত সাংবাদিক এবং সাংবাদিক সেজে অপরাধ করাটা এক নয়। এরমধ্যে একটা বড় পার্থক্য আছে। সেই পার্থক্যটা যেন আমরা সবাই বুঝি, সেই অনুরোধ থাকবে। সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যেন এ আইনটা (সাইবার সিকিউরিটি এক্ট) ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

আনিসুল হক বলেন, আজকে এ বিলটা (সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট) সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর এটা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে হয়তো ৪-৫ দিন সময়ের জন্য থাকবে। আমি গতকালও আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে আপনাদেরও যাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সে ব্যাপারে বলেছি। তিনি আমাকে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে সেখানে আপনাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে বাদীর সাজা দেওয়ার বিধান রাখার ব্যাপারেও কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করলে বাদীকে যে উলটো সাজা দেওয়ার ব্যাপারটা, সেটা নিয়েও কাজ করছি আমরা। এটার জন্য যা করা দরকার, তা নিয়ে আজকেই কথা শেষ করে ফেলবো। এটা আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) আশ্বস্ত করে গেলাম।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক। বিএফইউজের মহাসচিব দ্বীপ আজাদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, বর্তমান সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ।

এএএইচ/জেডএইচ/এমএস