ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১০:১১ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৫

‌‘সামিট কমিউনিকেশনসের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের নামে রাজস্ব ফাঁকির মামলা’—এই শিরোনামে গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জাগো নিউজে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদলিপি দিয়েছে সামিট কমিউনিকেশনস। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এই বিষয়ে অবগত নয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ম্যানেজার (ব্র‍্যান্ডিং ও পিআর) এম এম হাসান ভুইয়া এ সংক্রান্ত প্রতিবাদলিপি পাঠান।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, ‌‘সামিট কমিউনিকেশনসের চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের নামে রাজস্ব ফাঁকির মামলা’ শিরোনামের সংবাদটির প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। উক্ত খবরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্তের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে আমরা কোনো প্রকার অবগত নই। আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক গত ১৫ আগস্ট জারি করা পত্রের প্রেক্ষিতে নতুন শেয়ার ফি বাবদ ১০ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৫২ টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে এবং বিটিআরসি তা গ্রহণ করেছে। সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড সর্বদা দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলেছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিশেষত বিটিআরসির নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে এসেছে। সুতরাং, আপনার প্রকাশনায় উল্লিখিত ফি আসলে বিটিআরসি কর্তৃক পত্রপ্রাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রতিবেদকের বক্তব্য: গত ২৬ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের মহাপরিচালক মামলার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। তার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাগো নিউজের মন্তব্য বা বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, বিটিআরসির কর্মকর্তা ও লেক্স কাউন্সিলের প্যানেল আইনজীবীর সহযোগিতায় সামিট কমিউনিকেশনস বেআইনিভাবে ১৪ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৬টি নতুন অর্ডিনারি শেয়ার ইস্যু করে। যার মধ্যে ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯১১টি শেয়ার দেওয়া হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক গ্লোবাল এনারিং-এ, যা মুহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের মালিকানাধীন। ৪ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১১৯টি শেয়ার দেওয়া হয় মরিশাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেকুওয়া ইনফ্রা টেক লিমিটেডকে। বাকি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৪০৬টি শেয়ার দেওয়া হয় পূর্বের শেয়ারহোল্ডার মো. আরিফ আল ইসলামের অনুকূলে। এই শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির মূলধন প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে মোট শেয়ার সংখ্যা ৫.০৭ কোটি থেকে বেড়ে ১৯.২৮ কোটিতে পৌঁছে। ফলে, মোহাম্মদ ফরিদ খানের মালিকানা ৯৫ শতাংশ থেকে নেমে ২৫ শতাংশ এ আসে।

অন্যদিকে, দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকানা দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ধারা ২৪ অনুযায়ী, শেয়ার হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, বিক্রিত শেয়ারের মূল্যের ৫.৫ শতাংশ রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়। ২০২২ সালে একই কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব আদায়ে ওই আইনের প্রয়োগ থাকলেও এক্ষেত্রে বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব সামিট কমিউনিকেশন থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উক্ত ৫.৫ শতাংশ মূল্য পরিশোধ সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের জন্য প্রযোজ্য নয় মর্মে মতামত প্রদান করেন। এই মতামতের ভিত্তিতে বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কমিশনাররা মিলে অবৈধ সুবিধা নিয়ে শেয়ারের অনুমোদন দেন, ফলে সরকার প্রায় ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা রাজস্ব হারায়।

এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তারা টাকা দিয়েছে। ৫ আগস্টের (২০২৪) পর বিষয়টি যখন জানাজানি হয়, তখন তারা টাকাটি পরিশোধ করে দিয়েছে। এটা করে সামিট যে অপরাধ করেছে তারা তা প্রমাণ করেছে। যেই আইনজীবী আগে বললেন টাকাটা পরিশোধ করা ঠিক হবে না, উনি আবার মতামত দিলেন টাকা পরিশোধ করা যেতে পারে।’

এসএম/ইএ