হলফনামা
গোলাম আকবরের সম্পদ সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার, ঋণেও জর্জরিত
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম আকবর খন্দকার/ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম আকবর খন্দকার অর্থকড়ি ও সম্পদের দিক থেকে বড় অঙ্কের মালিক। তবে একই সঙ্গে তার ওপর রয়েছে বিপুল পরিমাণ ঋণের চাপ।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া নির্বাচনি হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার সম্পদের বিপরীতে তার ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, গোলাম আকবর খন্দকারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ১৬০ টাকা। এর বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার মোট ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ১৫১ টাকা।
এছাড়া লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ এবং তার স্ত্রীর কাছেও তার দায় রয়েছে আরও ৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৬০ টাকা।
আয় ও বিনিয়োগের চিত্র
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, শেয়ার ও বন্ডে গোলাম আকবর খন্দকারের বিনিয়োগ রয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯৭ টাকা। পেশাগত আয় হিসেবে তিনি বার্ষিক ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৭ টাকা আয় করেন বলে উল্লেখ করেছেন। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৯ টাকা।
নগদ অর্থ ও অস্থাবর সম্পদ
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ৫ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৯৯৬ টাকা। বন্ডে তার বিনিয়োগের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৪ টাকা, তবে বর্তমান বাজারমূল্যে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ১ হাজার ৫৫৯ টাকা।

যানবাহন ও অন্যান্য সম্পদ
হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানায় একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। সোনা ও স্বর্ণজাত ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ১৭ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
জমি ও ফ্ল্যাটে বড় বিনিয়োগ
স্থাবর সম্পদের তালিকায় দেখা যায়, গোলাম আকবর খন্দকারের মালিকানায় রয়েছে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার অকৃষি জমি। পাশাপাশি তার নামে রয়েছে বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট, যার মূল্য ৫৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। আবাসিক ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ ২১ হাজার টাকা।
ঋণের বড় অংশ ব্যাংকে
হলফনামা অনুযায়ী, তার সবচেয়ে বড় দায় ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই এই ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোট সম্পদের তুলনায় ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় তার আর্থিক কাঠামো অনেকটাই ঋণনির্ভর।
নির্বাচনিবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের হলফনামায় সম্পদ ও দায়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভোটাররা প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পায়। গোলাম আকবর খন্দকারের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তিনি একদিকে বড় অঙ্কের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হলেও অন্যদিকে ব্যাংকঋণে জর্জরিত।
এমআরএএইচ/এমআরএম/জেআইএম