ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

বিমান দুর্ঘটনা

মাইলস্টোনের উত্তরা-দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের কার্যক্রম বন্ধের আবেদন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা-দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ চান এ ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহত-নিহত হওয়া শিক্ষার্থীর পরিবার।

সম্প্রতি আটজন নিহত শিক্ষার্থী এবং একজন আহত শিক্ষার্থীর মা-বাবা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তাদের দাবি-দাওয়া জানিয়ে আবেদন দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তারা।

আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন- মো. সাহাবুল শেখ (নিহত রাইসা মনির পিতা), মেরাজ আহমেদ (আহত কাফি আহমেদের পিতা), মো. আবুল হোসেন (নিহত নুসরাত জাহান আনিকার পিতা), আ. কাদির (নিহত মারিয়াম উম্মে আফিয়ার পিতা), মনিকা আক্তার (নিহত মাহিত হাসান আরিয়ানের মাতা), মো. ফারুক হোসেন (নিহত ওয়াকিয়া ফেরদৌস নিধির পিতা), মোহাম্মদ আবু শাহীন (নিহত বোরহানউদ্দিন বাপ্পির পিতা), রূপা খানম (নিহত ফাতেমা আক্তারের মাতা), মো. আসলাম (নিহত জোনায়েদ হাসানের পিতা)।

আবেদনের চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অধ্যক্ষকে পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের উত্তরা দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাস বিধ্বস্ত হয়, এতে ন্যূনতম ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত হয়।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার প্রেক্ষিত, কারণ, দায়-দায়িত্ব, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ঘটনা সংশ্লিষ্ট অপরাপর বিষয় চিহ্নিত করণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লা খানকে সভাপতি করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এরই মধ্যে তদন্ত কমিশন তদন্ত কার্য সম্পন্ন করেছে এবং কয়েকজন ব্যক্তি/কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে কতিপয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছে। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অদ্যাবধি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি; এমন কি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গকেও এর কোনো কপি দেওয়া হয়নি।

গণমাধ্যম-সূত্রে আমরা জেনেছি যে, মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের ভবনটি রাজউকের নীতিমালা কিংবা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী নির্মিত হয়নি মর্মেও তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। রাজউকের অনুমোদন বহির্ভূতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভবন নির্মাণের ফলে ওই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।

এছাড়া তদন্ত কমিশন যে সব সুপারিশ করেছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ নিম্নরূপ বলে জানা যায়- মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের প্রধান ক্যাম্পাসের বর্তমান অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ, সে কারণে উক্ত ক্যাম্পাসটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন; ভবিষ্যতে ঢাকার জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা; দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করা।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ সব সুপারিশ, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের তরফ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং তাদের পুনরায় অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

আবেদনে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন আহত-নিহতের পিতা-মাতা

১. অবিলম্বে তদন্ত কমিশন কর্তৃক দাখিলকৃত সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে গণমাধ্যমে প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রদান।

২. বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদন প্রক্রিয়া ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী কী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বা হচ্ছে তা সবাইকে অবগত করা।

৩. ঝুঁকিপূর্ণ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জরুরি ভিত্তিতে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জরুরি ভিত্তিতে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত উত্তরা-দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির কার্যক্রম স্থগিতসহ সব প্রকার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে জানানো।

৫. দগ্ধ ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং নিহতদের পরিবারসহ সব ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করতে গৃহীত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপসমূহ আমাদের অবগত করা।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে সংঘটিত বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণার্থে এই আবেদন মঞ্জুর করে দ্রুততম সময়ে কার্যকর, যথোপযুক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আহত-নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

আরএমএম/এমআইএইচএস/এএসএম