ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের ৪০ দফা সুপারিশমালায় যা রয়েছে

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৯:৩৬ এএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংশ্লিষ্টতার বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিশন সোমবার (১২ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের স্বার্থে ৪০ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার বাইরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সুপারিশ সমূহ তুলে ধরা হয়।

৪০ দফার সুপারিশ সমূহ নিম্নরূপ

নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা
নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতার একটি ব্যবস্থা থাকা জরুরি-যেন কমিশন স্বেচ্ছাচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে না পারে। এজন্য একটি স্থায়ী নির্বাচন তদন্ত কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের কমিশন গঠনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার মাত্রা যেন কোনোভাবেই খর্ব না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ
স্বাধীন সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠন: সংবিধান ও আইনে আলাদা সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠন করে সীমানা নির্ধারণের পুরো ক্ষমতা সেখানে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন শুধু প্রশাসনিক সমন্বয় করবে। কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে এভাবে স্বাধীন সীমানা নির্ধারণ কমিশনের মাধ্যমে দলীয় স্বার্থে মানচিত্র বদল অনেকটাই ঠেকানো গেছে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রতিবেদনেও আলাদা সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠনে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

একাধিক পরামর্শ-ধাপ
সীমানা পুনর্নির্ধারণ দুই-তিন মাসের প্রশাসনিক কাজ হিসেবে নয়, অন্তত ১৮-২৪ মাসের বহু-ধাপের প্রক্রিয়া হিসেবে আইনে বেঁধে দিতে হবে। প্রথম ধাপে নীতিমালা ও তথ্য প্রকাশ, দ্বিতীয় ধাপে খসড়া মানচিত্র, তৃতীয় ধাপে সংশোধিত খসড়া-এভাবে প্রতিটি ধাপে লিখিত আপত্তি প্রদান ও সরাসরি শুনানি গ্রহণের ব্যবস্থা থাকা উচিত। ২০০৮ সাল থেকে সীমানা নির্ধারণে সিইজিআইএসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সিইজিআইএসকে ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনেক আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনে। ভবিষ্যতে সীমানা নির্ধারণে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন সুপারিশকৃত এতদসংক্রান্ত আইন বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সিইজিআইএসকে সীমানা নির্ধারণের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে।

স্পষ্ট সংখ্যাগত মান দণ্ড: প্রতি আসনে ভোটার সংখ্যা জাতীয় গড়ের কত শতাংশ বেশি-কম হতে পারবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট আইনি বিধান থাকতে হবে। সাধারাণত তা ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। কোন পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রম করা যাবে এবং প্রতি পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় মোট কত শতাংশ আসনের সীমানা বদলানো যাবে (যেমন ৫-১০ শতাংশের বেশি নয়) তা নির্ধারণ করে দিতে হবে।

পূর্ণ স্বচ্ছতা
প্রতিটি আসনের জন্য ব্যবহৃত আদমশুমারি তথ্য, বর্তমান ও প্রস্তাবিত মানচিত্র এবং কেন কোন এলাকা কোথায় স্থানান্তর করা হচ্ছে-এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য সহজ বাংলায় ব্যাখ্যাসহ উন্মুক্ত অনলাইন পোর্টালে দিতে হবে। এ সংক্রান্ত কমিটির মিটিংয়ে আলোচিত (গোপনীয় অংশ বাদে) বিষয়াদি, লিখিত আপত্তি এবং নিষ্পত্তির যুক্তিও অনলাইনে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত। কমিশনের তদন্তের মধ্য দিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে বেগিত তিনটি নির্বাচনের আগে গঠন করা অভ্যন্তরীণ সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটির কিছু সদস্য কখনো কখনো নির্দিষ্ট রাজনীতিবিদদের সুবিধার্থে সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে অনৈতিক প্রণোদনা গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা যায়। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি, যেখানে বিভিন্ন অংশীদারের অধিকার জড়িত, তা আরও বিস্তৃত পরামর্শের মাধ্যমে সম্পন্ন করা উচিত এবং প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব কমানোর জন্য একাধিক পরামর্শ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে সম্পন্ন করা উচিত।

ডিজিটাল আর্কাইভ ও বাধ্যতামূলক নথি সংরক্ষণ
প্রতিটি এলাকা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সব নথি (মানচিত্র, তথ্য, মিটিং এ আলোচিত বিষয়, চিঠিপত্র) ডেটাবেইজে রাখতে হবে, অন্তত ২০-২৫ বছর পর্যন্ত। এতে ভবিষ্যতে কেবল রাজনৈতিক স্মৃতির ওপর নয়, প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিচারিক পর্যালোচনা
নির্বাচন বা ফল ঘোষণা হওয়ার আগে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করার
সুযোগ থাকতে হবে। সুতরাং, আইনি প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করার জন্য (RPO (Representation of the People Order, 1972)-এ সংশোধনী আনা উচিত।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন
২০১৪ সালে নিবন্ধন করা দল - বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং ২০১৭ সালে নিবন্ধন করা দল বিএসপি এবং বিএনএমের নিবন্ধন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনর্যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এ ‘কার্যকারিতা’র সংজ্ঞা আওতাভুক্ত করতে হবে, ৭(৫) বিধি সংশোধন করে ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকারিতা প্রমাণের সুযোগ বাতিল করতে হবে এবং ১০ শতাংশ তথ্য নিয়ে যাচাইয়ের পদ্ধতি বাতিল করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী তথ্য যাচাইয়ে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। বিধিমালা সংশোধন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর, জেলা ও উপজেলা দপ্তরের মানদণ্ড নিরূপণ করহে হবে। বিধিমালায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট মানদণ্ড সংযুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন কার্যক্রমে সব গোয়েন্দা সংস্থাকে দূরে রাখতে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। আদালতের হস্তক্ষেপে নিবন্ধন বন্ধ করার জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পর পর দলের নিবন্ধন নবায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

ডামি ও বিনা ভোটের নির্বাচন
নির্বাচনের সব কার্যক্রমে সকল গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা বন্ধ করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো কাজে তাদের সহায়তা গ্রহণ প্রয়োজনীয় মনে করে, তা হলে তা নিতে পারবে এ ধরনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে।

নির্বাচনি প্রচারণা
প্রধানমন্ত্রী এক বছর আগে থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। দল ও প্রার্থীর জন্য নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা শুধু নির্বাচনকালীন প্রযোজ্য বিধায় সরকারি অর্থে পরিচালিত এ কার্যক্রম বন্ধ করা যায় না। এতে নির্বাচনের মাঠ অসমতল থাকে। তাই এ ধরনের প্রচারণা বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ
প্রশাসন ক্যাডার থেকে কোনো কর্মকর্তা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের বাইরে থেকে সচিব নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং সংখ্যক নিয়োগ করতে হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কমিশনের কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডার থেকে নিয়োগ করতে হবে। প্রণীত নির্বাচন সার্ভিস দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ
সরকারি অর্থ ব্যয় করে বিদেশি অপেশাদার পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণ বন্ধে বিধিমালা প্রণয়ন করহে হবে। পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের সকল পর্যায়ে গোয়েন্দা সংস্থার অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

গণমাধ্যম নীতিমালা
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক সরাসরি ভোটকেন্দ্রে কারো অনুমতি না নিয়েই প্রবেশ করতে পারবেন, অর্থাৎ নতুন করে কারো কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে না। কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ছবি তোলা এবং ভিডিও ধারণ করতে পারবেন, তবে কোনোক্রমেমেই গোপন কক্ষের ভেতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, গোপন কক্ষে কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সে ছবি/ভিডিও ধারণ করতে পারবেন; সাধারণভাবে একটি ভোটকক্ষে একসঙ্গে একটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার প্রবেশ করতে পারবেন। তবে বিশেষ কারণে যেমন: বিশিষ্ট ব্যক্তির ভোট প্রদানের ছবি তুলতে/ভিডিও ধারণ করতে, কিংবা অনিয়মের ছবি তুলতে/ভিডিও ধারণ করতে একাধিক সাংবাদিক একসঙ্গে ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন। সাংবাদিকরা ভোটগণনা কক্ষে ভোট গণনা দেখতে পারবেন, ছবি নিতে পারবেন, তবে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, গণনার সময় কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন।

ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি
জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের দৃষ্টিতে, বর্তমান কাঠামোতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইনকোয়ারি কমিটিকে নির্বাচন-ব্যবস্থার ‌‘গণতান্ত্রিক সুরক্ষা-বলয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে তাদের ক্ষমতা খর্বিত, অর্থবহ ভূমিকা সীমিত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে জিম্মি। জেলা ও দায়রা জজ এবং অন্যান্য বিচারিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনকালীন আর্থিক দায়িত্ব স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা দরকার। তাদের মাধ্যমে যে কোনো বরাদ্দ কেবল ব্যাংকিং চ্যানেলে, প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে এবং ডিজিটাল অডিট-ট্রেইল রেখে বিতরণ করতে হবে। নগদ অর্থ ব্যবস্থার অবসান না ঘটালে নির্বাচনি তহবিলের দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে কেবল অভিযোগ ফরোয়ার্ড করার একটি ‘ডাকবাক্স’ না রেখে, মাঠপর্যায়ে অভিযোগ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ, তাৎক্ষণিক সুপারিশ ও প্রশাসনিক সংশোধনী উদ্যোগের ক্ষমতা দিতে হবে। প্রার্থিতা বাতিল বা নির্বাচন স্থগিত করার মতো উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিলেও, অভিযোগের প্রাথমিক ও মাঝারি স্তরের প্রতিকারের ক্ষমতা নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি-এর হাতে রাখতে হবে, যেন স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব কমে। শুধু অভিযোগ সারাংশ করে নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো নয়, নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে নিজস্ব তদন্ত-দল, সাক্ষী তলব, পরিদর্শন ও সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে। শুধুই প্রার্থী বাতিল বা নির্বাচন স্থগিতের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকবে; কিন্তু মাঠপর্যায়ের ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ইত্যাদি বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে-এর হাতে থাকা উচিত। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় নির্বাহী ও রাজনৈতিক চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি স্পষ্ট প্রোটেকশন ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন-যেখানে বলা থাকবে, তারা যদি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নেন এবং সেই কারণে স্থানান্তর, বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হন, তা হলে উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাবে। সব এসআরও ও টিওআর-কে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল আর্কাইভে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, যেন আগামী দিনে আর কেউ দাবি করতে না পারে যে, কোন ম্যাজিস্ট্রেট, কোন নির্বাচনে কী দায়িত্বে ছিলেন-তার প্রাথমিক নথিই পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান বাস্তবতা যেখানে একাধিক নির্বাচনের অসম্পূর্ণ, হারিয়ে যাওয়া বা আংশিক তা প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনি প্রশাসনকে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বচ্ছ রাখা হয়েছে। সাথে স্বাধীন অডিট বাধ্যতামূলক করে, প্রতিটি নির্বাচনের পরে সংক্ষিপ্ত অডিট রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে-কোন জেলায়, কোন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে কত টাকা খরচ হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ম্যাজিস্ট্রেটদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তার বিষয়ে আরও তদন্ত করা উচিত এবং ওই প্রশিক্ষণের জন্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন তাদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

গোয়েন্দা সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা
ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা আনা জরুরি যেন ভবিষ্যতে এসব সংস্থা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে। ডিজিএফআই এবং এনএসআই এ নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। বেসামরিক প্রশাসনে ডিজিএফআই এবং এনএসআই এর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে সময় স্বল্পতার কারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের স্বার্থে ভবিষ্যতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এমইউ/এমআরএম/এমএস