এনইআইআর পদ্ধতি সংশোধনের দাবিতে মোবাইল ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
এনইআইআর সিস্টেম সংশোধন, মোবাইল ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে ৫৭ জন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার, নিরস্ত্র ব্যবসায়ীদের পরিবারকে রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দুই শতাধিক মোবাইল ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় তারা এনইআইআর সিস্টেম বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামিউল ইসলাম বলেন, আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা যখন ন্যায্য দাবি নিয়ে রাজপথে এসেছি তখন আমাদের ওপর অযৌক্তিকভাবে হামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা চাই আমাদের সঙ্গে যে হয়রানি করা হয়েছে তার বিচার হোক। পাশাপাশি আমাদের যৌক্তিক দাবি তথা এনইআইআর বাতিল করা হোক।
ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো হলো-
১। এনইআইআর সিস্টেম সংশোধন ছাড়া চালু হলে পুরো মোবাইল বাজার মাত্র নয়টি কোম্পানির দখলে চলে যাবে। সাধারণ মানুষের আর কোনো বিকল্প থাকবে না। বাজারে প্রতিযোগিতা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে, আর একচেটিয়া ক্ষমতার কারণে এই কোম্পানিগুলো দামে ইচ্ছামতো ছড়ি ঘোরাবে।
২। তরুণ সমাজ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি ভালো মানের স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য হারাবে। দাম বেড়ে যাবে অস্বাভাবিক হারে, ফলে তারা ডিজিটাল সেবা থেকে কার্যত বঞ্চিত হবে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
৩। ২ কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির আনা উপহার ফোন ব্যবহার অকার্যকর হয়ে যাবে, কারণ নতুন এনইআইআর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। এতে পরিবার-পরিজনদের ব্যবহৃত অনেক ফোন সরাসরি নিষিদ্ধ হয়ে পড়বে।
৪। গ্রামাঞ্চল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। একচেটিয়া বাজারে দাম এমনভাবে বেড়ে যাবে যে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার নাগালেই পৌঁছাতে পারবে না।
৫। সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফোন বদলানো, বিক্রি করা বা হস্তান্তর সবক্ষেত্রেই বড় ধরনের ঝামেলায় পড়বে। সিম/এনআইডি না মিললে ফোন বিক্রি প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। গ্রাহকের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে ভয়াবহভাবে।
৬। বাজারে প্রতিযোগিতা না থাকলে ওই নয়টি কোম্পানির নতুন মডেল আনার প্রয়োজনই থাকবে না। তারা পুরোনো মডেলই বারবার চাপিয়ে দেবে। আর দাম বাড়াতে থাকবে নিজেদের ইচ্ছেমতো কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই।
৭। ফোন হারালে পুলিশি সহায়তায় ট্র্যাকিং বা উদ্ধার সবকিছুই কার্যত অসম্ভব হয়ে যাবে। কারণ অপরাধীরা হারানো ফোনে সিম ব্যবহার করবে না। এতে জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং গ্রাহক বাধ্য হবে নতুন ফোন কিনতে।
৮। মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ২৫ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ২০ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি বেকার হয়ে পড়বে। এটি শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও এক বড় বিপদ।
এমএইচএ/এমআরএম