রুমিন ফারহানা
সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝায়, আমরা যেন ওই ট্র্যাপে আর না পড়ি
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারাহা-ফাইল ছবি
ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারাহানা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ঈশ্বর বানানোর প্রকল্প দেখেছে। প্রধানমন্ত্রী কোনো ভুল করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর। বাকিরা সবাই খুব দুষ্ট। সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝায়, সবাই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভুল কাজ করায়, সবাই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভুল কথা বলায়। আমরা যেন ওই ট্র্যাপে আর না পড়ি।’
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান প্রমুখ।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, মানবাধিকারটা তখন লঙ্ঘিত হয় যখন আমরা কাউকে আকাশ থেকে হঠাৎ করে নিচে ফেলে দেই। আমাদের আসলে মাত্রাজ্ঞানের বড় সমস্যা আছে সব পক্ষেই। আমরা মানুষকে হয় ঈশ্বর বানাই না হলে শয়তান বানাই। মানুষ কিন্তু ঈশ্বরও না শয়তানও না, মানুষ দোষে-গুণে মানুষ। আর প্রধানমন্ত্রীর ইটস অ্যান অফিস, লেটস ডিল ইট প্রফেশনালি তাই না? আমার মনে হয় তাহলেই দেশে ভারসাম্য থাকবে এবং সকলেরই তাতে মঙ্গল হবে।

তিনি বলেন, আমি একজন নাগরিক হিসেবে, আইন প্রণেতা হিসেবে এবং একজন ক্ষুদ্র আইনজীবী হিসেবে মনে করি, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে সত্যি সত্যি আইন করার দরকার নেই। তবে এই যে অধ্যাদেশ নিয়ে আমরা এখন কথা বলছি, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, এটিকে আইন করার প্রয়োজন আছে, শতভাগ প্রয়োজন আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটা সমাজে, এমন একটা রাষ্ট্রে, এমন একটা সময়ে বাস করছি যেই সময়ে বাংলাদেশে নারী, ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘু, আহমদিয়া সম্প্রদায়, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবী মানুষ, তাদের প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার অত্যন্ত সংকুচিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা হুমকির মুখে। আপনারা জানেন বম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষকে ৭০০ দিনের ওপরে কারাগারে রাখা হয়েছে, কোনো বিচার হয়নি, তাদের জামিন হচ্ছে না। আমরা আসলে তাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে জানি না।
রুমিন ফারাহানা বলেন, গত দুই দিন আগে আমি গণমাধ্যমে দেখলাম মধুপুরে আদিবাসী সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করার জন্য তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একটা ব্যবসায়িক ব্যাপার আছে সেখানে, জমির ব্যাপার আছে। আপনারা সবাই জানেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ কিন্তু দলিলের ওপর থাকেন না। উনাদের জমির অধিকার কিন্তু বংশপরম্পরায়, শত শত বছর ধরে তারা ওখানে থাকেন, তারা ওখানেই জন্মায়, ওখানেই বেড়ে ওঠে, ওখানেই তাদের জীবন পার করে দেয়। তাদের কাছে দলিল থাকবার কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারপরও আমরা দেখেছি রাষ্ট্রের নির্মমতা।
রাজনৈতিক দলে নারীর কম উপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে রুমিন ফারাহানা বলেন, ‘আমরা দেখেছি নারীদের ওপর সহিংসতা, এটাতো আর বলার অপেক্ষা রাখে না, তাই না? আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এতো নারীবান্ধব যে একটি দল শূন্য শতাংশ, আর আরেকটি দল ৩ শতাংশ। চমৎকার নারীবান্ধব বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো।’
তিনি বলেন, ‘এতো চমৎকার পরিবেশে আমরা কাজ করি। আমি একজন শ্রমজীবী মানুষ, আমি একজন নারী এবং নানাভাবেই আমি নিজেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত মনে করি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমার মতো, আমাদের মতো, আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্টের, সমস্যার, বিপদের জায়গাগুলো যদি রাষ্ট্র সুরক্ষা দিতে না পারে, তাহলে সরকার আসবে সরকার যাবে কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো পরিবর্তন হবে না।’
ইএইচটি/এসএইচএস
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী
- ২ সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝায়, আমরা যেন ওই ট্র্যাপে আর না পড়ি
- ৩ ঈদযাত্রার নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, অশ্বারোহী পুলিশ
- ৪ পরীক্ষা হলে নকল ধরায় শিক্ষককে মারধর, অভিযুক্ত গ্রেফতার
- ৫ রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপের ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত